কলকাতায় ‘বীরাঙ্গনা থেকে নেয়েলসন’

নিউজনাউ ডেস্ক: ড. নীলিমা ইব্রাহিমের গল্পের নাটক নিয়ে পশ্চিম বঙ্গে মঞ্চ মাতালো গাজীপুরে মুক্তমঞ্চ নাট্যদল। স্বাধীনতার সূর্বনজয়ন্তী, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও বিশ্বনাট্য দিবস উপলক্ষে কলকাতার বিভিন্ন মঞ্চে মঞ্চস্থ হলো ” বীরাঙ্গনা থেকে নেয়লসন”। জীবন থেকে নেয়া এই গল্পের নাট্যরূপ দিয়েছেন তোসাদ্দেক হোসাইন মান্নার, নির্দেশনায় রোমানা রুমা।

১৯৭১ সালে বীরাঙ্গনাদের যুদ্ধ পরবর্তী সামাজিক, পারিবারিক অবেহেলা, বঞ্চনা তুলে ধরা হয়েছে এই নাটকে। সে সময় শুধুমাত্র একজন এইসব অবহেলিত নারীদের বুকে টেনে নিয়ে সাদা পাঞ্জাবি চোখের জলে ভিজিয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সারাদেশ যখন স্বাধীনতার সূর্বনজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ পালন করছে ঠিক সে সময় বাংলাদেশের গাজীপুরের মেয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রোমানা রুমা তার বিদ্যাপীঠের ভারতীয়সহ সব শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিয়েছেন লাল সবুজের পতাকা আর জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত করেছেন মঞ্চ।

রোমানা রুমা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নীরবে বিস্তার করছে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের আগামী প্রজন্মের কাছে। ১৯৭১ সালে কোটি কোটি শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে ভারত আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল ঠিক তেমনি এই নাটকে রুমার নির্দেশনায় রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিনয় করে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের নাটক ও থিয়েটারকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই নাটক প্রসঙ্গ রোমানা রুমা নিউজনাউকে বলেন, মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে সব নারীরা বীরাঙ্গনা ছিলেন তাদের মধ্যে তারা ব্যনার্জি একজন। তাকে ঘিরেই মূলত একটা মনোলোগ নাটক। কিন্তু আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে আমি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে একটু ভিন্ন ডিজাইনে করেছি। যেমন একটা নারী চরিত্রকে আমি সমাজের সেই সকল নারী চরিত্র করেছি। যারা ধর্ষিত হওয়ার পরে বিচারের নামে সংবাদপত্রে নিউজ হয়ে থাকে সাথে সমাজের লোকেরা তাদেরকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে চায় না। এমনকি তাদের পরিবারের মানুষজনের কাছেও তারা সহানুভূতি ও করুণার পাত্র হয়ে থাকে। সেই সকল নারীদের হয়না পরিবারে একটু ঠাঁই। কোন কোন পরিবার পরিজনরা তাদেরকে পূনর্বাসন কেন্দ্রে ফেলে রেখে আসে। এমনকি পরিবারের মানুষরাও তাদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখে! এটাই আমার নাটকের মূল ভাবনা।

অভিনেত্রী নিকিতা সাহা বলেন, আমার দাদু শ্রী ফনী ভুষণ সাহা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমি তার কাছে ছোটবেলায় অনেক গল্প শুনেছি। সেসব শুনে আতঙ্কে, কষ্টে কেঁপে উঠছিলাম কিন্তু ভাবিনি সেই মুক্তিযুদ্ধের নাটকে আমি অভিনয় করবো। এই নাটকে বীরাঙ্গনাদের আর্তনাদ যদি সামান্য হলেও দর্শকের মনে দাগ কেটে যায় তবে তা আমাদের কাছে বিশাল প্রাপ্তি।

বীরাঙ্গণা থেকে নেয়েলসন নাটকটায় আমি অভিনয় করতে পেরে সত্যি খুব আনন্দিত হয়েছি। আমি আমার সৌভাগ্য মনে করি যে এমন একটা স্ক্রিপ্টে আমি কাজ করতে পারছি।আমি যখনই এই স্ক্রিপ্টটা পড়েছিলাম তখনি ঠিক করে নিয়েছিলাম যে এই নাটকে অভিনয় করবই কারণ আমার ঠাকুরদার বোন অর্থাৎ আমার বাবার পিসিমা ১৯৭১সালের রাজাকারদের নির্যাতনে শহীদ হন । আমার দেশ মানে ভারতবর্ষের কলকাতা শহরে প্রায় অনেক মঞ্চেই আমরা এই নাটকটা দর্শকের সামনে তুলে ধরেছি এবং খুব ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি । আশা করি এই ভাবেই পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতবর্ষের সব জায়গায় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের কথা এভাবে আমরা দর্শকদের কাছে তুলে ধরব।

একজন অবাঙ্গালী এর শিক্ষার্থি সুকান্ত ঠাকুর বলেন ”এই নাটক আমার জীবনের প্রথম বাংলা নাটক। এই নাটকের মাধ্যমে আমি বাংলাদেশ সর্ম্পকে অনেক কিছু জানতে পেরেছি বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ। যা আমার ভিতরে এক অন্যরকম অনুভুতি কাজ করে যা আমি প্রকাশ করতে পারবো না।”

নাটকটিতে অভিনয়ে করেছে নিকিতা সাহা, সুকন্ঠ ঠাকুর, পূজা পাল, জিসান মন্ডল, সিমিন হোসেন, পিয়া মল্লিক, বিমল হাজরা, অনিক রায়। আলোক নিক্ষেপের দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বজিৎ, সপ্তর্ষি। মিউজিক ও মঞ্চ সজ্জায় রোমানা। এই নাটকে মূল চরিত্রে শিল্পী নিকিতা সাহা মুক্তিযোদ্ধা ফনি ভুষন সাহার নাতনি আর পূজা পাল চট্টগ্রামের আদিবাস ভুমি।

পরবর্তী শো মঞ্চস্থ হবে ২০ মে মালদাহে তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহ রবীন্দ্র সদন ৩০ মে। নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয় ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: