প্রেমের ফাঁদে ২ লাখ টাকা হারান ব্যাংক কর্মকর্তা; চার প্রতারক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মাত্র পাঁচদিনে প্রেমের ফাঁদ পেতে চট্টগ্রামের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের হালিশহর ব্রাঞ্চের সিনিয়র অফিসার শামীম হাসানের (৩৭) ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। তবে ভিটকিমের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য। যদিও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে সেই প্রতারক নারী।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে বাকলিয়া থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. শহীদ আলম ওরফে লেদু (৩০), জাহাঙ্গীর আলম (৩০), গিয়াস উদ্দিন (২৯) ও মো. রায়হান (২৮)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের হালিশহর ব্রাঞ্চের সিনিয়র অফিসার শামীম হাসানের (৩৭) তার পরিচিত ব্যক্তির কাছে পাওয়া মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কয়েকদিন কথা বলার এক পর্যায়ে গত ৫ মার্চ বিকেলে ওই তরুণী ব্যাংক কর্মকর্তাকে বাসায় যাওয়ার দাওয়াত দেন। ওই দিন ব্যাংক কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল এলাকায় গিয়ে মেয়েটিকে ফোন করে। এ সময় ওই তরুণী তাকে বাসায় নেওয়ার জন্য রায়হান নামে একজনকে পাঠাচ্ছেন বলে জানান।

ওসি রুহুল আমিন জানান, রায়হান রাহাত্তারপুল থেকে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে নিয়ে চান্দাপুকুর এলাকা বিসমিল্লাহ টাওয়ার নামে একটি ভবনের পেছনে খালি জায়গায় নিয়ে যান। যেখানে আগে থেকেই লেদু, গিয়াস, জাহাঙ্গীরসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তারা ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে জিম্মি করে ‘অবৈধ সম্পর্ক’ করতে সেখানে গিয়েছে বলে লোক জড়ো করার হুমকি দেন। পাশাপাশি তারা ছুরিকাঘাতের ভয় দেখায় এবং পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। পরে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা তার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে কয়েকটি বিকাশ নম্বরে দুই লাখ টাকা পরিশোধ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

বৃহস্পতিবার ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বিষয়টি বাকলিয়া থানায় জানালে পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সত্যতা পায়। পরে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। এই চক্রের নারী সদস্যকে শনাক্ত করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি রুহুল আমিন।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
1
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: