করোনায় শিক্ষার্থীদের ‘অনুদান’ গুজবে, রামপালে আবেদন জমার ভীড়

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপালে করোনায় শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদানের গুজবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। প্রত্যয়নপত্র নিতে প্রতিনিয়তই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাববকরা ভীড় জমাচ্ছেন। একইভাবে ভীড় বাড়ছে স্থানীয় বাজারের কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে কাজ করা দোকানে। যদিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা বলছেন এটি একটি মহলের ছড়ানো গুজব।

সরেজমিনে দেখাগেছে, সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে ইন্টারনেটে আবেদন জমা করতে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এসেছেন। অনুদানের টাকা কাদের দেয়া হচ্ছে এ বিষয়ে তাদের কোনো ধারনা নেই। অপরের মুখ থেকে শুনে এবং ফেসবুকে খবর পেয়ে তারা আবেদন করতে এসেছেন। তবে সার্ভার জটিলতার কারনে আবেদন জমা করতে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে অনেককেই। আবেদন জমা করার জন্য কম্পিউটার দোকনীরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের দেয়া প্রত্যয়নপত্র, ফোন নম্বর, বিকাশ নাম্বার, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর বা জন্ম সনদ নিচ্ছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উদ্ধর্তন কর্মকর্তা জানান, রাজস্ব খাত থেকে অনুদান হিসাবে ১১ কোটি টাকা দেবে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। এই অনুদানের টাকা দেয়া হবে মেধাবী,অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী এবং জটিল ও ব্যায়বহুল রোগী, দূর্ঘটনা কবলিত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাকর্মচারীদের। অনলাইনে আবেদন গ্রহনের পর একটি নিতীমালা অনুসরন করে যাচাই বাছাই সাপেক্ষে এই অনুদান প্রদান করা হবে। এখানে ঢালাওভাবে সবাইকে অনুদান প্রদানের সুযোগ নেই। ফি বছরের মতো এ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে ৬ কোটি এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি পর্যায়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচিত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ৮ হাজার, উচ্চ মাধ্যমিক ৯ হাজার এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ১০ হাজার টাকা অনুদান পাবেন।

গত রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে “করোনায় সরকার ছাত্রছাত্রীদের ১০ হাজার টাকা দিচ্ছে” এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে এই গুজব ছড়িয়ে দেয়। তারপর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ইন্টরনেটের দোকানে আবেদন জমা করার হিড়িক পড়ে যায়। তবে এই গুজব সম্পর্কে সচেতন করতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে কয়েক দফা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সবাইকে প্রতারক চক্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রামপাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল হক জানান, অসচ্ছল ও দুস্থ, জটিল রোগে আক্রান্ত বা দূর্ঘটনার শিকার শিক্ষক-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের এই অনুদানের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। গত বছরও এ ধরনের একটি অনুদান দেয়া হয়েছিল। এটি কোনো করোনা প্রনোদনা নয়। আবেদনের সময়সীমা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নিউজনাউ/টিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
1
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: