পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিকদের গল্পকথা

নিউজনাউ ডেস্ক: সকাল ৮ টার মধ্যে সংসারের কাজ শেষ করে দলবেঁধে আসেন কারখানায়। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বিকেল ৫ টায় ছুটি। বাসায় গিয়ে আবার লেগে পড়তে হয় সংসারের কাজে। মাসের শেষে হাতে আসা বেতন তাদের আত্মনির্ভশীলতার হাসি ফোঁটায়। সমাজকে দেখিয়ে দিচ্ছে তারা আজ পিছিয়ে নেই। বলছি তৈরি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের কথা। সমাজের সীমাবদ্ধতার গণ্ডি পেরিয়ে তারা এখন আত্মনির্ভশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে অন্যান্য নারীদেরও।

অন্যদিকে বিপরীত চিত্রও আছে। এই শিল্পে কাজ করতে এসে অসংখ্য নারী শ্রমিক অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। পাচ্ছেন না শ্রমের উপযুক্ত মূল্য। চাকরি হারিয়ে পথে বসছেন অনেকেই।

হাজার হাজার নারী শ্রমিক রয়েছেন যারা নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাদের কর্মক্ষেত্রে নেই স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট, বিশুদ্ধ পানি। পরিশ্রম করার পরও মাস শেষে বেতন পান না ঠিকমতো। কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। মালিক হয়ে যায় লাপাত্তা।

এই সেক্টরের একটি অংশ দীর্ঘকাল নারীদের সঙ্গে আমানবিক আচরণ করে এলেও এর কোনো প্রতিকার নেই। বড় কারখানার মালিকরা ছোট কারখানায় কাজ না করার উপদেশ দিলেও দিন শেষে তারাই ছোট কারখানাগুলো থেকে কাজ করিয়ে নেন। কিন্তু শ্রমিকদের কথা ভাবেন না।

নাগরিক হিসেবে পুরুষের সমান অধিকার থাকা সত্ত্বেও নারীরা অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন। নারীর নিরাপত্তার অবস্থা অনেক সময় হতাশাব্যঞ্জক, তখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ নানা ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে এটা সার্বিক বিবেচনায় কতটা অগ্রগতি তা ভেবে দেখার বিষয়। তাছাড়া অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে।

পাপিয়া দীর্ঘ দিন স্বামীর সঙ্গে গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও এখন তিনি নিজেই ছোট পরিসরে কারখানা গড়েছেন। চুক্তিভিত্তিতে বড় কারখানা থেকে কাজের অর্ডার নেন। তিনি বলেন, এখাতে শ্রমিকেরা কাজ করবে কিন্তু মজুরি পাবে না এটা হয় না। মাস শেষে নারীর বেতন তাকে কাজের স্পৃহা আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে অনেক কারখানা অর্থাভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না। তারা শ্রমিকের মজুরি ঠকিয়ে কারখানা বন্ধ করে চলে যায়।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: