বৈশাখী টেলিভিশনের সামাজিক দায়িত্ব

জিয়াউল হক রাসেল
Corporate Social Responsibility (CSR) বা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা হল এমন একটি ব্যবসায়িক শিষ্ঠাচার বা নীতি যা সমাজের প্রতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোর দায়িত্ব পালনকে ব্যবসার নিয়মের মধ্য অন্তর্ভুক্ত করে। যে পরিবেশে বা যে সমাজে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে সেই সমাজের প্রতি প্রতিষ্ঠানের কিছু দায়বদ্ধতা জন্মায়। বর্তমান যুগে অধিকাংশ বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই সিএসআর বা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে চিকিৎসা, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী, পোশাক ও শীত বস্ত্র বিতরণ, কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক অনুদান, দূর্যোগকালীন সাহায্য সহযোগিতা, শিক্ষা বৃত্তি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচী, স্থানীয় সামাজিক অনুষ্ঠানে আর্থিক অনুদান প্রদান, দূর্ঘটনা / দুর্যোগ কবলিত এলাকায় খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থাকরণ, চাকুরীর সুযোগ প্রদান, অক্ষর জ্ঞানহীন মানুষের শিক্ষার ব্যবস্থাকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নে সহযোগিতকরণসহ নানা ভাবে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করছে।

আমাদের দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠান গুলোকেও বছর ব্যাপী নানা উদ্দ্যোগ নিতে দেখা যায়। কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেকে চাকরি দিয়ে তাদের সামাজিক ভাবে মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে খুব একটা দেখা যায় না। সম্প্রতি ভোটার হিসেবে নারী বা পুরুষের পাশাপাশি হিজড়া পরিচয়েও নিবন্ধনের অধিকার লাভ করেছেন রূপান্তরকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা। জন্মগতভাবে অনেকেই নানা শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। এ কারণে কখনো কখনো পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হতে হয় তাদের।

বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলে নিয়মিত সংবাদ পাঠ করছে তৃতীয় লিঙ্গেরেএকজন মানুষ। বিষয়টা শুনতে কল্পকাহিনী মনে হলেও এমনই একটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বৈশাখী টেলিভিশনে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের গণমাধ্যমে কাজের সুযোগ করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল টিভি চ্যানেলটি। এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে বৈশাখী টেলিভিশন একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশে এই প্রথম টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করবেন ট্রান্সজেন্ডার নারী তাসনুভা আনান শিশির। এছাড়া একই দিন আরেক ট্রান্সজেন্ডার নারী নুসরাত মৌকে দেখা যাবে একটি নাটকে অভিনয় করতে। বৈশাখী টেলিভিশনের একজন সাবেক কর্মী হিসাবে এরকম একটি উদ্দ্যোগকে স্বাগত জানাই।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তৃতীয় লিঙ্গের দুজন মানুষকে চমকপ্রদ এ সুযোগ করে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা একটি বড় উদাহরন সৃষ্টি করল টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। এমন উদ্দ্যোগ সমাজের অবহেলিত রূপান্তরিত নারীদের ভেতর থেকে সম্ভাবনাময়, প্রতিভাবানদের সংবাদ ও নাটকে যুক্ত করার এ উদ্যোগ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে এবং অন্যদেরও এগিয়ে আসতে উৎসাহ জোগাবে। শুভ কামনা রইল বৈশাখী টেলিভিশনের জন্য।

 

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: