পিকের ২৬০০ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ,মামলা দায়েরের প্রস্তুতি

নিউজনাউ ডেস্ক: পাঁচ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দেশের বাইরে পাচারের অভিযোগ পিকে হালদারের ২৬০০ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে দুদক। জব্দ করা সম্পদের মধ্যে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের ১৫৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং তার সহযোগীদের হিসাবে স্থানান্তর করা ১১০০ কোটি টাকা রয়েছে।

এছাড়া প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা সমমূল্যের জমি, হোটেল ও ফ্ল্যাট ক্রোক করা হয়। দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের আবেদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি এই নগদ অর্থ ও সম্পদের ওপর এই ক্রোকাদেশ দেন আদালত। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এদিকে পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগে ১০টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।

দুদকের অনুসন্ধান ও গ্রেফতার করা কয়েকজনের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পিকে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয়স্বজনকে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেনডেন্ট পরিচালক বানান।

তার একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাৎ করেন। পিপলস লিজিংয়ে আমানতকারীদের ৩০০০ কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করে ওই কোম্পানিকে পথে বসিয়েছেন।

এমনকি তিনি এসব কোম্পানির স্থাবর সম্পদ বিক্রি করে দেন। আমানতকারীদের শেয়ার পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ অর্থ তিনি দেশের বাইরে পাচার করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পিকে হালদারের সহযোগী রাশেদুল হক স্বীকার করেছেন, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক ও রেজা গ্রুপের চেয়ারম্যান শহীদ রেজা মূলত ছিলেন পিকে হালদারের প্রধান সহযোগী। পিকে হালদারের নির্দেশে তার বিভিন্ন কাগুজে প্রতিষ্ঠানে ২০০ কোটি ঋণ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সিমটেকের মালিক সিদ্দিকুর রহমান, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক এমডি ইরফান উদ্দিন আহমেদ, পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী, পিকের সহযোগী রাজীম সোম, কাজী মোমরেজ মাহমুদ, স্বপন কুমার বিশ্বাস, অভিজিত, অমিতাভ অধিকারী, শঙ্খ ব্যাপারী, সুস্মিতা সাহা, গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী, অতশী মৃধা, অমল চন্দ্র দাস, রতন কুমার বিশ্বাসকে দিয়ে জালিয়াতির কাজটি করেন। পিকে হালদার মূলত এদের এনআইডি কার্ড দিয়ে ভুয়া কোম্পানি বানিয়ে তা দিয়ে শত শত কোটি টাকা লিজিং থেকে লুট করেন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পিকে হালদার কৌশলে তার সহযোগীদের ব্যাংকে ১১০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন। ওই টাকা জব্দ করে দুদক।

এর মধ্যে তার সহযোগী নওশেরুল ইসলাম ভুয়া কোম্পানির নামে ঋণ দেখিয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস লিজিং ও পিপলস লিজিং থেকে ২০১৫-২০১৯ সালে তার একাধিক হিসাবে জমা করেন ৩৫২ কোটি টাকা। এই টাকা থেকে তিনি উত্তোলন করেন ২৪৩ কোটি ২ লাখ টাকা।

ওই হিসাব থেকে দুদক জব্দ করেছে ৯৫ কোটি টাকা। তার সহযোগী মমতাজ বেগম ভুয়া কোম্পানির নামে ঋণ দেখিয়ে কয়েক বছরে তার একাধিক হিসাবে জমা করেন ৪ কোটি টাকা। উত্তোলন করেন ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ হিসাব থেকে দুদক জব্দ করেছে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

এদিকে পিকে হালদারের রূপগঞ্জে ৫৭ একর জমি, ঢাকার ফার্মগেটের আইবিএ হোস্টেলের পাশে ৬৬ কাঠা জমি, কক্সবাজারে রেডিসন হোটেল, উত্তরায় ১০ তলা বাড়ি, ধানমন্ডি ২নং রোডে একটি ফ্ল্যাটসহ প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা সমমূল্যের সম্পদ ক্রোক করেছে দুদক।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পিকে হালদারের বন্ধু মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক একেএম শহীদ রেজা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ টাকাও জব্দের আওতায় আনা হয়েছে। পিকে হালদারের ব্যক্তিগত হিসাবের ১৫৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা জমা ও সমপরিমাণ উত্তোলন করা হয়, যা একজন ব্যাংকারের স্বাভাবিক লেনদেন। এ টাকাও জব্দ করা হয়েছে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: