সার্জিস্কোপে ওয়ার্ড বয়ের দেওয়া ইঞ্জেকশনে রোগীর মৃত্যু!

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরের চকবাজারে ‘সার্জিস্কোপ হাসপাতাল ইউনিট-২’তে ওয়ার্ড বয়ের ইঞ্জেকশন পুশের পর এক মহিলার মৃত্যুর অভিযোগ করেছে পরিবার। রীনা বেগম (৪৫) নামের সেই মহিলা সুস্থ হয়ে হাসপাতালের ছাড়পত্রও পেয়েছিল।

তবে শেষ মুহূর্তে ডাক্তারের আসতে দেরি হওয়ায় ওয়ার্ড বয়ের পুশ করা ইঞ্জেকশনে আর জীবিত বাড়ি ফেরা হলো না রীনার। মিডিয়ার বাড়াবাড়ি বলে বিষয়টি অস্বীকার করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১ মার্চ) সকালে হাসপাতালটির ভুল চিকিৎসায় রীনা বেগমের মৃত্যু হয় বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন তার ছেলে ইমতিয়াজ মাহমুদ। তার অভিযোগের সত্যতা মিলে সেই ওয়ার্ড বয় রাশেদের স্বীকারোক্তিতে।

রাশেদ বলেন, ইঞ্জেকশনটা পুশ করে আমি আমার জায়গায় চলে আসি। পুশ করার আধাঘন্টা পর রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রোগীর স্বজনরা ডাক দিলে আমরা দৌড়ে গিয়ে আমাদের ট্রিটমেন্ট চালায়। তারপর তাকে আইসিইউতে শিফট করা হয়। ডাক্তার চেকআপ, ইসিজি করে বলেন যে উনি মারা গেছেন।

ইঞ্জেকশন পুশ করার পর রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি এ ধরনের অভিযোগ বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোর জন্য কমন বিষয়।

মৃতের ছেলে ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, আম্মু ৬ দিন যাবত সার্জিস্কোপে চিকিৎসাধীন ছিল। উনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছিলেন। গতকাল রাতে কনস্যালট্যান্ট ডা. এ.আতা মোহাম্মদ মোজাচ্ছেম উনাকে দেখতে এসে আমাদের জানায় আমার আম্মু শংকা মুক্ত। আজকে বাসায় নিয়ে যাওয়ারও কথা ছিল।

ইমতিয়াজ মাহমুদ আরও বলেন, এরপর আজ সকালে আমি রিলিজ নেওয়ার জন্য টাকা-পয়সা জোগাড় করেছিলাম। গতকাল রাতে আম্মুকে ব্যাথার ইঞ্জেকশন দেয়া হয়। এছাড়া তার একটা নরমাল স্যালাইন চলছিল। স্যালইন শেষ হয়ে যাওয়ার ঘন্টাখানেক পর একজন ওয়ার্ড বয় আসে। হাতে লাগানো ক্যানোলাটা ক্লিয়ার না করে এক সিরিজ ‘ডিপিএস স্যালাইন’ দিয়ে ডিরেক্ট পুশ করে দেয়। ওয়ার্ড বয় ইঞ্জেকশনটা দেওয়ার পরে তিনটা বড়,বড় নিশ্বাস ফেলল আমার মা মারা যান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালটির চিফ ফিন্যানসিয়াল অফিসার সঞ্জয় কুমার নাথ বলেন, ডাক্তার আসেতে একটু দেরি হওয়ায় ওকে বলছে ইঞ্জেকশনটা দিয়ে আসতে। রোগীর ভালোর জন্য ইঞ্জেকশনটা পুশ করেছে। বাচাঁতে গিয়ে উল্টোটা হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, এখন আর কি করার। আমরা বলেছি তারা যেন বিল না দেয়। জানা গেছে প্রায় ৮২ হাজার টাকার বিল এসেছিল রানী বেগমের চিকিৎসায়।

সার্জিস্কোপ হাসপাতালের বোর্ড মেম্বার ডা. এ.আতা মোহাম্মদ মোজাচ্ছেম বলেন, ব্যাপারটা কিছু হয় নাই। ক্যান্সারের রোগী ছিল মারা গেছে। ওরাতো কত কিছু বলবে।

হাসপাতালে মৃত্যুর অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, একজন ওয়ার্ড বয় কোনো ধরনের ইঞ্জেকশন পুশ করার সুযোগ নেয়। আমরা এ ধরনের অভিযোগ পেলে কমিটি গঠন করে দিবো। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
মন্তব্য
Loading...
%d bloggers like this: