ডিম খাওয়ার যত উপকারিতা

নিউজনাউ ডেস্ক: ডিমকে প্রোটিন ও পুষ্টি উপাদানের শক্তি ঘর বলা হয়। ডিম প্রায় সব রকমের পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি প্রাকৃতিক খাবার। সব বয়সের মানুষের জন্য ডিম অত্যন্ত উপকারী খাদ্য। তাই আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান, প্রতিদিন একটি করে ডিম খান।

আসুন জেনে নেই ডিম খাবার কিছু উপকারিতা।

# ওজন কমায়:
সুসিদ্ধ ডিম চর্বিহীন প্রোটিনের খুব ভালো উৎস। এটা শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ না করেই অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। দুপুর বা রাতে খাবার খাওয়ার সময় দুটি সিদ্ধ ডিম ও এক কাপ সবজি খান যা ২৭৪ ক্যালরির যোগান দেয়।

# হাড় সুদৃঢ় করে:
প্রসব পূর্ব বিকাশে অতি-সিদ্ধ ডিম, ভিটামিন ডি’য়ের পাশাপাশি ভালো কাজ করে। এটা শিশুর দাঁত, হাড় ও সাধারণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

# বিপাক বৃদ্ধি:
উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া তাপীয় প্রভাবের কারণে বিপাক বাড়াতে সহায়তা করে। এর কারণ হল খাবার হজম করতে ও পুষ্টি প্রক্রিয়াকরণ করতে বেশি ক্যালরি ব্যয় হয়। সিদ্ধ ডিম খাওয়া, বেশি কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি খাওয়ার তুলনায় বেশি ক্যালরি খরচ করতে সহায়তা করে। ফলে বিপাক বৃদ্ধি পায়।

# কোলিনের ভালো উৎস:
মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে কোলিন সাহায্য করে। এটা মস্তিষ্কের মেম্ব্রেন ও পেশি সুগঠিত রাখতে সাহায্য করে, যা মস্তিষ্কের ঝিল্লি গঠন করতে সহায়তা করে এবং এটা স্নায়ু থেকে পেশিতে সংবেদন পৌঁছাতে সহায়তা করে।

# চোখ, চুল ও নখের জন্য উপকারী:
সিদ্ধ ডিম চোখের জন্য উপকারী। প্রতিদিন একটা করে সিদ্ধ ডিম খাওয়া ‘ম্যাকুলার’ ক্ষয় কমায়। কারণ এতে আছে লুটেইন ও জ্যাক্সেন্থিন।

# ডিম প্রোটিনের উৎস:
আমাদের দেহের একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো প্রোটিন। আর প্রোটিনের খুব ভালো একটি উৎস হলো ডিম। ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়। ডিমে থাকা প্রোটিন আমাদের দেহের হাড়কে শক্ত এবং মজবুত করে। ডিমে থাকা প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম আমাদের দাঁত ভালো রাখে।

# দেহে শক্তি যোগান দেয়:
আমাদের প্রতিদিনের কাজকর্ম করার জন জন্য শক্তি দরকার। সকালের একটি মাত্র ডিম আপনাকে সারা দিন শক্তি যোগাতে সাহায্য করবে। ডিমে থাকা ভিটামিন-বি আমাদের গ্রহণকৃত খাবারকে এনার্জিতে পরিণত করে।

# চোখের সমস্যা সমাধান করে:
আমাদের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো আমাদের চোখ। চোখ ভালো রাখতে ভিটামিন-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর ডিমে রয়েছে ভিটামিন-এ। ডিমে থাকা কেরোটিনয়েড ও ল্যুটেন বৃদ্ধ বয়সে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

# ক্যানসার প্রতিরোধ করে:
ক্যানসার একটি মারাত্মক ব্যাধি। ডিমে থাকা ভিটামিন-ই আমাদের ত্বক এবং কোষের ফ্রি র‍্যাডিকেল ধংস করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এছাড়াও নতুন কোষ গঠন করতে সাহায্য করে। অ্যাডোলেশন পিরিয়ডে নিয়মিত ডিম খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

#পেশি ব্যাথা কমায়:
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে আমাদের হাত পায়ের পেশিতে ব্যথা হয়। ডিম খেলে পেশির ব্যথা কমে। তাই ডাক্তাররা ব্যায়াম করার পরে ডিম খাওয়ার কথা বলেন।

#হার্ট ভালো রাখে:
আমাদের হার্ট ভালো রাখা অতি জরুরি। ডিম হার্টের মধ্যে রক্ত জমাট বাধতে বাধা প্রদান করে এবং সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত চলাচল করতে সাহায্য করে।

#কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে:
আমাদের দেহে দুই ধরনের কোলেস্টেরল পাওয়া যায়। খারাপ কোলেস্টেরল এবং ভালো কোলেস্টেরল। ডিম খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে।

#রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:
আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ডিমের ভূমিকা রয়েছে। ডিমে থাকা জিংক আমাদের দেহে কমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। সর্দি, কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন রকমের রোগ প্রতিরোধ করতে ডিম খাওয়া দরকার।

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: