NewsNow24.Com
Leading Multimedia News Portal in Bangladesh

তরুণ নেতৃত্বে ভরপুর থাকবে আওয়ামী লীগ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

বিশেষ প্রতিনিধি : আর কয়েকদিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। আর এ কাউন্সিলকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক পদচারনা। আর এলক্ষ্যে একঝাঁক নতুন মুখ আগামী নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। নিউজ নাউ এর বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য। জানা গেছে,দলটির হাইকমান্ড ইতিমধ্যে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তরুণ নেতাদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। আর সেখানে উজ্বল ভাবমুর্তির সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে।আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, অন্যবারের চেয়ে এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেশি তরুণকে কমিটিতে পদায়ন করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও মন্ত্রিসভায় তরুণদের সফলতার কারণেই আসন্ন নতুন কমিটিতে তরুণদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযানের কারণেও অনেক পুরনো নেতা বাদ যাবেন। তাদের স্থান পূরণে তরুণদের কমিটিতে আনা হবে।
নীতিনির্ধারকরা আরো জানান, আওয়ামী লীগের তারুণ্যনির্ভর নতুন কমিটিতে স্থান পেতে এগিয়ে আছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। এর মধ্যে আছেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ইসহাক আলী খান পান্না। তিনি ১৯৯৪-৯৮ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। ২০০১ সালে দলের দুর্দিনে গঠিত পর্যবেক্ষক কমিটির সদস্য ছিলেন পান্না। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুর রাজ্জাকের বড় ছেলে নাহিম রাজ্জাকের নাম বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে। সবচেয়ে কম বয়সে এমপি বনে যাওয়া নাহিম প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রেরণায় এখন তারুণ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। উচ্চ শিক্ষিত এ তরুণ ডিজিটাল সরকারের নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্ত রয়েছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাহাদুর ব্যাপারী। এরপর আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক হলেও কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান হয়নি। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি ও শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবার তিনিও আসতে পারেন।২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন লিয়াকত সিকদার। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য। পদ না থাকলেও দলের নেপথ্যে থেকে কাজ করছেন তিনি। এবার মূল কমিটিতে জায়গা পেতে অনেকটাই এগিয়ে আছেন। এছাড়া ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করা মাহমুদ হাসান রিপনের নামও শোন যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে ও সংকটকালীন জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আলোচিত হন তিনি।জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে সৈয়দা জাকিয়া নূর এমপি। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন। এবার তিনিও আসতে পারেন জাতীয় কমিটিতে।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুজ্জামান শিখর এমপি, আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল এমপির নাম শোনা যাচ্ছে। যুবলীগের সদ্যবিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, কৃষক লীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, মহিলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি রওশন জাহান সাথী আলোচনায় আছেন।
দলটির তারুণ্যের কমিটিতে স্থান পেতে পারেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলিলের ছেলে ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন এমপি, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার, ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের মেয়ে সুজাতা হক।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, নব্বই দশকের জনপ্রিয় মডেল-অভিনেতা ও হকি ফেডারেশনের নেতা ফয়সাল আহসানউল্লাহ কমিটিতে থাকছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে সরকার ও দলকে পৃথক করার ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি সাজাতে চায় আওয়ামী লীগ। আবার তরুণ নেতৃত্বের একটি অংশ বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। তবে মন্ত্রিসভায় না রাখলেই নয় এমন সফল কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা কমিটিতে থাকছেন।একই কারণে কমিটির বাইরে থাকা বেশ কয়েকজন তরুণ প্রতিমন্ত্রী আসতে পারেন নতুন নেতৃত্বে। তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এছাড়া তরুণদের মধ্য থেকে আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- রাজনীতি বিশ্লেষক ও সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এ আরাফাত, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, এএইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাইফুর রহমান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল সংসদের সাবেক ভিপি সুভাষ সিংহ রায়, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি খ ম হাসান কবির আরিফ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির, গোলাম সারোয়ার কবির, পনিরুজ্জামান তরুণ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া শিপু, আওয়ামী লীগের প্রচার উপ-কমিটির সদস্য সাদিকুর রহমান পরাগ প্রমুখ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আপনার মতামত জানান

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More