শেষ হলো ‘২য় আন্তর্জাতিক আইন উৎসব’

মাশরুর রহমান মাহিন: আইনের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন দ্য নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল’ স্টুডেন্টস (নিলস) এর বাংলাদেশ অধ্যায় আয়োজনে শেষ হলো ‘২য় আন্তর্জাতিক আইন উৎসব ২০২০’। ১৭ ডিসেম্বর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের। পর্দা নামে ১৯ ডিসেম্বর। এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, ‘আন্তর্জাতিক সংঘর্ষ ও মানবাধিকার’। ইভেন্টে পরামর্শ সহযোগিতায় ছিলো বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। সম্পূর্ণ উৎসবটি মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের গৌরবময় ইতিহাস এবং ত্রিশ লাখ বীর শহীদ ও দুই লাখ বীরাঙ্গনার আত্মত্যাগের প্রতি উৎসর্গ করা হয়।

গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে উদ্বোধন হওয়া তিনদিনব্যাপী এই উৎসবের আকর্ষণ হিসেবে ছিলো ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন’ বিষয়ক ম্যুট কোর্ট প্রতিযোগিতা। যেখানে নেপাল ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০টি দল অংশ নেয়। ৩০ জন বিচারক উক্ত প্রতিযোগিতাটি বিচারের গুরুদায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগীতায় ‘বেস্ট মেমোরিয়াল’ পুরস্কার পেয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘বেস্ট রিসার্চার’ হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চার আসিফ-উল-গনি। যৌথভাবে ‘বেস্ট অ্যাডভোকেসি’ পুরস্কার পেয়েছেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়ান্নী মহসিনা হক এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সুমাইয়া ইসলাম।

এছাড়াও উৎসবের অংশ হিসেবে ছিলো ‘লিঙ্গভিত্তিক সংঘাত এবং ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ’ বিষয়ক একটি পোস্টার উপস্থাপনা প্রতিযোগিতা। যেটিতে থাইল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৫০ জনের বেশি প্রতিযোগী অংশ নেয়। উক্ত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুবাইয়া-আল–মাহিম এবং ফাইজা কামাল মুনমুন। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন হাবিবা মঞ্জুর এবং আবুল হাসনাত (গ্রিন ইউনিভারসিটি) এবং অরণ্য হোসেন সাকিব (সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যলয়),  তৃতীয় স্থান অধিকার করেন স্নিগ্ধা দাস ও নওরিন জাহান (সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)।

এছাড়াও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো, ২৭৫ জন অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে ‘গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ’ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞরা যুক্ত হোন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মানবিক আইন বিষয়ক আইনজ্ঞ, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা উক্ত উৎসবে অংশ নেন।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নায়মা হায়দার। উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি এবং সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিসের পরিচালক জনাব মফিদুল হক, এডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; ক্রিশ্চিন রিচাডসন, এসোসিয়েট প্রফেসর ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে; ফারহানা হেলাল মেহতাব, প্রফেসর, ড্যাফোডিল ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর এবিএম আবু নোমান, ডিন,আইন অনুষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সম্পূর্ণ ইভেন্টটি সফল করতে নেতৃত্ব দেন ইভেন্টটির অর্গানাইজিং প্রধান লুৎফুন্নাহার সঞ্চি, সহ সভাপতি, নীলস বাংলাদেশ সভাপতি, মুহম্মদ মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক মো সাজ্জাদ। তাদের সাথে নিরলসভাবে কাজ করেন ২২ জন অর্গানাইজার ও ভলান্টিয়ার।

১৯ ডিসেম্বর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন উৎসবের এবারের আসরের পর্দা নামে।

করোনা মহামারির প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ ইভেন্টটি এবার অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা মহামারির প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ ইভেন্টটি এবার অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য ডেইলি স্টার, দেশ টিভি, মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল নিউজনাউ টোয়েন্টি ফোর, বাংলা নিউজ টোয়েন্টি ফোর, এবং রেডিও টুডে ৮৯.৪ এফএম।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: