ভারত এবং চীনের মধ্যস্থতা চায় ট্রাম্প

নিউজনাউ ডেস্ক: ভারত এবং চীনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সব কিছু করতে রাজি ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টের হয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের মুখপাত্র।

তাঁর বক্তব্য, ট্রাম্প বলেছেন, ভারত অ্যামেরিকার বন্ধু। আর চীনের মানুষকে অ্যামেরিকা পছন্দ করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অ্যামেরিকা সব কিছু করতে প্রস্তুত।

লাদাখে ভারত-চীন সংঘাত শুরু হওয়ার পরেই ট্রাম্প মধ্যস্থতার কথা বলেছিলেন। যদিও দুই দেশই তখন তা নাকচ করে দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সহ একাধিক উচ্চপদস্থ সচিব সে সময় ভারতের পক্ষেও কথা বলেছিলেন। গত কয়েক দিন তাঁরা লাগাতার চীনের বিরুদ্ধে কথা বলে গিয়েছেন। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

গালওয়ানে ভারত-চীন সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে। তারপর চীনের উদ্দেশে তেমন কড়া বার্তা দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই রক্তাক্ত সংঘাতের আড়াই সপ্তাহ পরেও সেনা সরেনি। সেনা পর্যায়ে আলোচনায় দ্রুত কোনও ফল হচ্ছে না। এই অবস্থায় লাদাখে দাঁড়িয়ে চীনকে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছেন মোদী।

২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অ্যামেরিকায় ভোটাধিকারপ্রাপ্ত ভারতীয়ের সংখ্যা ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। এই মুহূর্তে অ্যামেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় ভোটদাতার সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। চীনা ভোটাদাতার সংখ্যাও ৩০ লাখের কাছাকাছি। এই দু’টি গোষ্ঠীর ভোট পকেটে রাখতে পারলে ট্রাম্প অনেকটাই সুবিধাজনক জায়গায় থাকতে পারবেন। সে কারণেই বিশাল আয়োজন করে ভারত সফরে এসেছিলেন ট্রাম্প।

নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তৃতায় কার্যত ট্রাম্পের জন্য ভোট চেয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সে ভাবনা মাথায় রেখেই ফের ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তা দিলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে বললেন, তিনি ‘চীনের মানুষ’কে ভালোবাসেন। অর্থাৎ, চীনের সরকারের সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথ চললেও সেখানকার সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই।

নিউজনাউ/টিএন/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: