জুনে সড়কে প্রাণহানি ৩৬১, বেড়েছে দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সীমিতভাবে গণপরিবহন চললেও, দেশের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে ২১৩টি দুর্ঘটনায় ২৯২ জন নিহত হয়েছিলেন। আর জুন মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৯৭টি। এতে নিহত হয়েছে ৩৬১ জন এবং আহত ৩৪৮ জন।

রবিবার ( ৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহতের মধ্যে নারী ৫৭, শিশু ৩২। এককভাবে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১০৩টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৯৪ জন, যা মোট নিহতের ২৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৭৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৯ জন, অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মে মাসের তুলনায় জুন মাসে দুর্ঘটনা ৩৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং প্রাণহানি ২৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৩১টি (৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ৯২টি (৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৫৩টি (১৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ২১টি (৭ দশমিক ০৭ শতাংশ) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। সংগঠনটি আরও জানায়, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৪০৭ টি।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ , রাজশাহী বিভাগে ২০ দশমিক ৫৩ শতাংশ , চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ , সিলেট বিভাগে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ঢাকায় ৬৪টি দুর্ঘটনায় ৮১ জন নিহত হয়েছে। আর কম দুর্ঘটনা সিলেট বিভাগে, সেখানে ১১ টি দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জন। একক জেলা হিসেবে ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে , ১৫টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত। সবচেয়ে কম পিরোজপুরে, ১টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত।

এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি, দ্রুতগতি, অদক্ষ চালক, চালকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ১০টি কারণ তুলে ধরে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

নিউজনাউ/ এম এইচ/ ২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: