আবারও বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি

মো. শাইখুল ইসলাম সাগর, নীলফামারী প্রতিনিধি:
টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি তৃতীয় দফায় বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে পুনরায় তিস্তার চরাঞ্চলের বন্যা ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সকাল থেকে তিস্তা অববাহিকায় মুষলধারে বৃষ্টি চলছে।

শনিবার (৪ জুলাই) নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে সকাল ৯টায় ৪ সেন্টিমিটার পানি কমেছে।

এর আগে চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি সর্ব প্রথম গত ২০ জুন বিপৎসীমার উপরে উঠে। যা পরের দিন ২১ জুন সকালে নেমে যায়। এর ৬ দিনের মাথায় ২৬ জুন তিস্তা নদীর পানি দ্বিতীয় দফায় পুনরায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২০ সেন্টিমিটার উপরে উঠে ২৮ জুন সকালে পানি নেমে যায়।

তৃতীয় দফায় উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে সৃষ্ট বন্যার পানি সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। এদিকে তিস্তার বন্যায় জেলার ডিমলা উপজেলার ছয় ইউনিয়নের বসত ঘরগুলোতে হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। তিস্তার চরাঞ্চলের মধ্যে খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের কিছামত ছাতনাই ও ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি ও ফরেস্টের চরের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে বলে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানান।

এদিকে ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, তিস্তার বন্যায় ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশ চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি চর ও গ্রাম তিস্তার বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই সকল এলাকায় বসবাসকারীরা নিরাপদে উঁচু স্থানে সরে গিয়েছেন।

শনিবার নতুন করে টেপাখড়িবাড়ি ও খালিশাচাঁপানী এলাকায় ৪টি পরিবারে বসতঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

এছাড়া কিছামত ছাতনাই গ্রামটি এবারে টিকবে কি-না এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সেখানে প্রচন্ডভাবে তিস্তার ভাঙন শুরু হয়েছে। ৫০টি পরিবার নিরাপদে সরে গেছেন। সেখানে প্রায় তিনশত পরিবারের বসবাস।

ডিমলা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান নিউজনাউকে জানান, তিস্তা নদীর গত দুই দফায় বন্যায় ৬ ইউনিয়নে ৩ হাজার ২৪৫ বন্যা কবলিত পরিবারকে সরকারি ভাবে ১৫ কেজি করে চাল, শুকনা খাবার ও তিস্তা নদী ভাঙনে বসতভিটা হারানো ৭৫ পরিবারের মাঝে ২ হাজার করে নগদ টাকা প্রদান করা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম নিউজনাউকে জানান, তিস্তা নদীর পানি সকাল ৯টা হতে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

অপরদিকে ডিমলা উপজেলার নাউতারা নদীর দুই ধারে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ৬টি পয়েন্টে ওই নদীর ভাঙনে এরমধ্যে প্রায় ৫০ বিঘা আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া স্থানীয়দের চলাচলের জন্য নদীর উপর যে কাঠের সাঁকো তৈরি করেছিল তা নদীর পানি স্রোতে ভেঙ্গে পড়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় নিউজনাউকে জানান, তিনি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: