করোনাকালে ৭ কোটি মানুষ সরাসরিভাবে সরকারের সহায়তা পেয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশে গেল সাড়ে তিনমাসে একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। অনেকে আশা করেনি এরকম সরকারি সাহায্য দেয়া হবে। বাংলাদেশে ৭ কোটি মানুষ সরাসরিভাবে সরকারের সহায়তা পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ১৩৬ জন সাংবাদিককে করোনাকালীন সহায়তার চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে অনেক কথা বলেন। পৃথিবীর কোনো দেশ করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুত ছিল না। চীন তো প্রথমে স্বীকারই করেনি। আমরা সীমিত সামর্থ্য নিয়ে মোকাবেলা করছি। আমাদের মৃত্যুহার ভারত পাকিস্তানের চেয়ে কম। ইউরোপের চেয়ে তো অনেক কম। যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা সেই মনোবৃত্তি থেকে সমালোচনা উচিত নয়।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনায় সারা বিশ্ব যখন পর্যুদস্ত, তখন শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনগণের শারীরিক সুরক্ষার পাশাপাশি খেটে খাওয়া ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের জন্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ এসময় করোনা নিয়ে নানা মতামত দিয়েছেন। কিন্তু সবার মতামত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশে গেল সাড়ে তিনমাসে একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। অনেকে আশা করেনি এরকম সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কেবল সরকার নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও এক কোটি ২৫ লাখ মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। অনেক মন্ত্রী-এমপি আক্রান্ত, দলের কেন্দ্রীয় তিন নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন যারা ত্রাণ তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, করোনা মোকাবেলায় পৃথিবীর সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রগুলো তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আর সামরিক শক্তির কোনো কিছুই কাজে লাগাতে পারছে না। একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য বিপুল অর্থ যারা ব্যয় করেছে ক্ষুদ্র ভাইরাস তাদের অসহায় করে দিয়েছে। আমাদের গভীরভাবে ভাবা দরকার আমরা সামরিক ব্যয় বাড়াব নাকি মানুষের সুরক্ষা ব্যয় বাড়াব।

সাংবাদিকদের সহায়তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শুরুতে করোনাকালীন সহায়তার জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে আরও দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এখন চার কোটি ৩১ লাখ টাকা সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ। প্রথম ধাপে দেড় কোটি টাকার মতো বিতরণ করা হচ্ছে। পরে বাকি অর্থ বিতরণ করা হবে।

করোনাকালীন সময়ে সাংবাদিকদের চাকুরিচ্যুতিকে অমানবিক উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আমরা নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করেছি। কিন্তু সম্পাদকরা তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেননি, যা দুঃখজনক। করোনা আসার পর আমরা অনুরোধ করে আসছিলাম পাওনা পরিশোধ করা আর চাকরিচ্যুতি না করার ব্যাপারে। মালিকরা বলছেন, নিজেদের অসুবিধার কথা। কিন্তু মালিকদের শুধু অসুবিধা না, করোনা পরিস্থিতিতে সুবিধাও আছে। কারণ আগের চেয়ে অনেক কম পত্রিকা ছাপাতে হচ্ছে। যার কারণে ছাপা না হওয়া পত্রিকার প্রতি কপিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়তি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না। এতকিছুর পরও মানবিকতা না দেখানো দুঃখজনক। মানবিকভাবে বিবেচনা করলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যেত।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলামের সঞ্চালনায় চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, বিএফইউজে’র যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী।

প্রসঙ্গত, ঢাকার পর চট্টগ্রামেও প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত করোনাকালীন সহায়তার চেক পান চট্টগ্রামের ১৩৬ জন সাংবাদিক। প্রতিজনকে দশ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ২৫ জন সাংবাদিককে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা নিয়মিত সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।

নিউজনাউ/পিপিএন

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: