যোগ্যতা প্রমাণ করে দলে ফেরার প্রত্যয় ইমরুলের

রাশেদুজ্জামান, মেহেরপুর প্রতিনিধি:
ক্রিকেটই ধ্যান জ্ঞান, ক্রিকেটের মধ্যেই বেঁচে থাকতে চান জাতীয় দলের এক সময়ের সাড়া জাগানো ওপেনার ইমরুল কায়েস। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে বার বার ফিরে এসেছেন জাতীয় দলে। তারপরও সব সময়ই থেকেছেন উপেক্ষিত। এতোকিছুর পরও ক্রিকেট নিয়ে কোন আক্ষেপ নেই তার। সম্প্রতি এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মারা গেলেও ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই ক্রিকেটার।

বৈশ্বিক মহামারিতে দেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে ব্যাট বলের লড়াই। অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করে অখণ্ড অবসরে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু দীর্ঘ বিরতিতে নিজেকে ফিট রাখা যে বড্ড বেশি প্রয়োজন অ্যাথলেটদের। তা ভালো করেই জানেন ইমরুল কায়েস। বোর্ডের নির্দেশনা মেনে গ্রামের যে মাঠে হাতে খড়ি সে মাঠে তাই কঠোর অনুশীলনে নিজেকে প্রস্তুত রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার।

অনুশীলনকালের ফাকে তার সাথে কথা হয় ক্রিকেট নিয়ে। তুলে ধরেছেন ক্রিকেট নিয়ে পাওয়া না পাওয়ার গল্পগুলো। নিয়মিত পারফর্ম করার পরও জাতীয় দলে বাইরে থাকতে হয়েছে অনেক সময়। এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরুল জানান, ক্রিকেট নিয়ে কোন আক্ষেপ নেই। বরং ক্রিকেটই তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। সারাবিশ্বে পরিচিত করেছে। দেশে বিদেশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ভক্ত। যা তাকে সব সময় অনুপ্রেরণা যোগায়। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়াকে ভাগ্যের পরিণতি বলে মনে করেন তিনি। তবে আপাতত ২২ গজের ধ্যান জ্ঞান নিয়ে থাকতে চান তিনি।

ক্রিকেটের পর ভবিষ্যতের কথা জানতে চাওয়া হয়েছিলো ইমরুল কায়েসের কাছে। তার সাফ জবাব আপাতত ক্রিকেট নিয়েই ভাবছেন তিনি। এর বাইরে কিছুই ভাবছেন না। নিজেকে প্রস্তুত করছেন জাতীয় দলে ফেরার জন্য। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ হওয়ায় হতাশাও ভর করেছে তার মাঝে। ক্যারিয়ার শেষ করেই ভবিষ্যতের কথা ভাববেন বলে মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারিয়েছেন। তারপরও দুর্ঘটনার সাথে জড়িতদের ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি। কেন ক্ষমা করলেন এমন প্রশ্নে জবাবে ইমরুল জানান, ‘করোনার কারণে ইচ্ছে থাকলেও বাবাকে দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেননি। তারপরও দেশে থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন বাবাকে বাঁচানোর। বাবার কথা মনে পড়তেই চোখে পানি এসে যায়। চাপা কষ্ট বুকে নিয়েই হয়তো বাকিটা জীবন পার করতে হবে। তারপরও কোন আক্ষেপ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনাতো কেউ ইচ্ছে করে করেন না। এর সাথে জড়িত যারা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুরো পরিবার বিপদে পড়বে। হয়তো অনেক কষ্ট করে তাদের সংসার চলবে। সব কথা ভেবে দুর্ঘটনার সাথে জড়িতদের ক্ষমা করে দিয়েছি।’

অনিশ্চয়তা আর হতাশার মাঝে ধৈর্যশীল ইমরুলের বিশ্বাস কালো অন্ধকার ঠেলে সোনালী সূর্য আলো ছড়াবে সগৌরবে। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে আবারও জাতীয় দলের ফেরার চেষ্টা করবেন এমনই প্রত্যাশা তার।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান