সিরাজগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতির আরো অবনতি

হারুন অর রশিদ খান হাসান-সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

অনেক স্থানে নদী ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নদীর পানি তীব্র গতিতে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করে মানুষের বাড়িঘর, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে । অনেকেই বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। সহায়সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষেরা।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৬ টায় বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময় কাজিপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এ দিকে যমুনা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে টানা চারদিন বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর,কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার লক্ষাধিক পানিবন্দী মানুষের ঘর-বাড়িতে ঢেউ খেলছে বন্যার পানি। রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে থাকায় বন্যা কবলিত মানুষদের নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে চলাচল করতে হচ্ছে। যারা ঘর বাড়ি ছেড়ে বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে তাদেরকে খাদ্য,বিশুদ্ধ পানি ও জ্বালানির অভাবে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, ‘বন্যায় পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২শ ১৬টি গ্রামের ২৪ হাজার ৯শ ২৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২শ ৮০টি ঘরবাড়ি আংশিক, ২২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ এবং প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে ১২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে এবারে আকস্মিক বন্যায় বেশী ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে কাজিপুর উপজেলায়। বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৬ টায় কাজিপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও বাড়ি ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

গত বছর বন্যায় ব্রিজটির নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে একপাশে দেবে যায়। তারপরেও ওই সেতু হয়েই যাতায়াত চালু ছিলো। কিন্তু এ বছরের বন্যায় সেতুটি দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে।

চরগিরিশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক জানান, বন্যায় ব্রিজটির ক্ষতি হয়ে গেছে। পানি নেমে গেলে এর সংস্কার করা জরুরি।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: