নারায়ণগঞ্জে সার্জারির রোগীরা বাসায় থাকেন!

নুসরাত সুপ্তি, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন মনির। এ হাসপাতালেই সার্জারি শেষে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৩-৪ দিন অন্তর ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ও ড্রেসিং করতে হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিজের নামে একটি বেড নিশ্চিত করলেও তিনি বাসায় থাকেন। কারণটা হলো স্বাস্থ্যবিধি ও করোনাকালীন নিরাপত্তা।

এদিকে বাড়িতে থাকা সম্ভব হলে বাড়িতে থেকেই টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া শ্রেয় বলে পরামর্শ দিচ্ছেন সিনিয়র কনসালটেন্টগণ। হাসপাতালে থেকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করতে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন অসুস্থ রোগীরা। করোনাকালের এই চিত্র চোখে পড়েছে সরজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করে।

ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সূত্রমতে, হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে (পুরুষ ও মহিলা ) মোট ২৮টি বেড রয়েছে। এর মাঝে ২৭টি বেডে রোগী ভর্তি। তবে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। সার্জারি ওয়ার্ডের অর্ধেকেরও বেশি বেডে রোগী নেই। ফাঁকা বিছানা।

এ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র নার্স নিউজনাউকে বলেন, করোনা সংক্রমণের পূর্বে হাসপাতালে এমন পরিস্থিতি ছিলো না। লকডাউনের সময় হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ছিলো না বললেই চলে লকডাউনের পরে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। কিন্তু আগের তুলনায় কম। আর যে রোগীরা সার্জারি করেন তারা ভর্তি হন, অনেকেই হাসপাতালে থাকার চেয়ে নিজের বাড়িতেই থাকা নিরাপদবোধ করেন। এজন্য কয়েকজন রোগী ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন।

হাসপাতালের ভর্তি রোগীর স্বজন গাফফার নিউজনাউকে বলেন, ‘আমাদের রোগী হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু যারা কাছাকাছি থাকেন তারা হাসপাতালে থাকেন না। বাড়ি থেকে এসে ডাক্তার দেখিয়ে চলে যান। ওই সময়টাতে কিছুক্ষণ নিজের বেডে থাকে।’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান নিউজনাউকে বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়মিত সার্জারি চলছে। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে রোগীরা হাসপাতালে সার্জারি করলেও হাসপাতালে ভর্তি থাকতে ভয় পান। এজন্য যে রোগীরা হাসপাতালের কাছাকাছি থাকেন তারা বাসায় থাকেন। সময়মতো এসে ডাক্তারের চিকিৎসা নেন।’

নিউজনাউ/এবি/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: