সকালে ঘুম ভাঙতেই চায় না, কি করবেন

নিউজনাউ ডেস্ক:

কথায় আছে, যারা বেলা করে ঘুম থেকে ওঠে তাদের চেয়ে যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠে তারা বেশি সফল। কারণ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে কাজ এবং অবসরের জন্য বেশি সময় পাওয়া যায়। কিন্তু ঘুমকে নিয়ন্ত্রণে আনা খুব কঠিন। বিশেষ করে পরিশ্রমী মানুষের এই সমস্যা বেশি। সকালে ঘুম কাটতে না চাইলে কাজে বাধে বিপত্তি। তবে সমাধান কিন্তু আপনি চাইলেই সম্ভব। ভোরের আলো জীবনে সাফল্য আনে।

আজ সকাল সকাল থাকছে সকালে ঘুম থেকে দ্রুত ওঠা আর ঘুমের রেশ কাটানোর দারুণ কিছু উপায়-

১. বিভিন্ন অজুহাতে রাতে ঘুমাতে যেতে দেরি হয় আপনার। কিন্তু চেষ্টা করুন প্রতিদিন রাতে তাড়াতাড়ি ও একই সময়ে ঘুমানোর এবং জেগে ওঠার।

২. আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সময় নির্ধারণ করুন এবং কিছু পদক্ষেপ নিন। প্রথমে আপনার নিয়মিত ঘুমানোর সময়ের চেয়ে ১৫ মিনিট আগে ঘুমাতে যান এবং ১৫ মিনিট আগে ঘুম থেকে জেগে উঠুন। পরদিন ৩০ মিনিট আগে ঘুমান। এভাবে আস্তে আস্তে সময় বাড়াতে পারেন।

৩. যদি ডাক্তারের পরামর্শ না থাকে তাহলে দুপুরে ঘুমাবেন না। কারণ দুপুরের ঘুমের কারণেই রাতে দেরিতে ঘুম আসে এবং সকালে উঠতে দেরি হয়। তাই দুপুরের ঘুমকে এড়িয়ে চলুন।

৪. আপনি দেরিতে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে দেরিতে ওঠেন- আপনার এই ঘুম চক্রটি থেকে বের হন। এর জন্য জোর করে হলেও একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে জেগে উঠুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১ গ্লাস উষ্ণ দুধ পান করুন, ব্যায়াম করুন।

৫. দুপুরের পর বা বিকেল থেকে ক্যাফেইন খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনবেন। এক গবেষণায় বলা হয়, ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন খেলে ৬ ঘণ্টা পর তা ঘুমের সমস্যা করে। স্বাভাবিক আকারের এক কাপ কফিতেই এ পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। বিকাল ৫টার আগে থেকেই কফি খাওয়া বন্ধ করা উচিত।

৬. রাতে ঘুমানোর আগে বই পড়ুন যা আপনাকে শান্ত করতে সাহায্য করবে। আর হ্যাঁ, ভুলেও ফোন ল্যাপটপ ঘাটতে যাবেন না। ঘুমের আগেই ফোনটিকে হাত থেকে দূরে রাখুন। তবে হালকা গান শুনতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুকতে যাবেন না।

৭. আপনার ঘরের পরিবেশ ও ঘুম আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি আপনার শোয়ার ঘরটি পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকে তাহলে আপনার মন শিথিল থাকবে এবং দ্রুত ঘুম চলে আসবে।

৮. সকালে করতে হবে এমন কিছু কাজের তালিকা করুন। এর ফলে আপনার ঘুম থেকে ওঠার প্রেরণা তৈরি হবে।

৯. সকালে ঘুম থেকে ওঠাতে পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে দায়িত্ব দিন। অনেকে অ্যালার্ম ঘড়ির শব্দেও উঠতে পারেন না। কিংবা অ্যালার্ম বন্ধ করে আবারো ঘুমিয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে বাড়ির কোনো সদস্য আপনাকে উঠতে বাধ্য করবেন।

১০. একবার ব্যর্থ হলেই চিন্তিত হবেন না। চেষ্টা চালিয়ে যান। আপনার শরীর হয়তো নির্দিষ্ট ঘুমের ধরনের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে গেছে, নতুন অভ্যাস তৈরি করতে কিছুটা সময়তো লাগবেই। তাই আপনার শরীরকে নতুন অভ্যাস আয়ত্তে নিতে সময় দিন। প্রথমদিনই হয়তো আপনি ব্যর্থ হবেন, কিন্তু সপ্তাহ শেষে দেখবেন যে নতুন এই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন আপনি।

নিউজনাউ/এসএইচ/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: