কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বাদশাহ্ সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম নিউজনাউকে জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর, সদর, নাগেশ্বরী উপজেলাসহ ৯ উপজেলার ৩৫ ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী জীবন যাপন করছেন।

গত ৫ দিন ধরে পানিবন্দী এসব মানুষের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চারণভূমি তলিয়ে যাওয়া গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিত মানুষজন।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন নিউজনাউকে জানান, ‘আমার ইউনিয়নের প্রায় ১৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।’

উলিপুরের বেগমগন্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, বেগমগন্জ ইউনিয়নের পুরোটাই বন্যা কবলিত। প্রায় ১৩ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার নিউজনাউকে জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নে ১৫ হাজার মানুষ গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দী জীবন যাপন করছে। এসব মানুষের হাতে কোন কাজ না থাকায় জরুরিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো চাল বা শুকনো খাবার বরাদ্দ পাননি বলেও জানান তিনি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের বদলীপাড়া এলাকার ছকিনা বেওয়া, সুরুজ্জামান, শাহাজাহান জানান, ‘গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে আছি। হাতে কাজ নাই, ঘরে খাবারও নাই। এ অবস্থা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন পাড় করছি।’

যাত্রাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ময়নুদ্দিন ভোলা নিউজনাউকে জানান, তার ওয়ার্ডের পানিবন্দী মানুষেরা অবর্ণনীয় কষ্টে থাকলেও এখন পর্যন্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদেরকে কোন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

উলিপুরের সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী বলে জানান চেয়ারম্যান সিদ্দিক মন্ডল।

সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দইখাওয়ার চরের কালু মিয়া, সিরাজুল হক, রমজান আলী জানান, ‘ঘরের ভিতর পানি উঠেছে। বউ বাচ্চা নিয়ে কষ্টে আছি। নৌকা ছাড়া চলার উপায় নাই। পানি আরো বাড়লে বাড়িতে থাকার উপায় থাকবে না। আশেপাশে কোন শুকনো জায়গাও নেই।’

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম নিউজনাউকে জানান, বন্যা কবলিত এসব মানুষের জন্য সরকারিভাবে ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৩৬ লাখ ৬৮ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চেয়ারম্যানদের মাঝে বিতরণ শুরু হয়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজার রহমান প্রধান নিউজনাউকে জানান, জেলায় ৫ হাজার ৬শ’ ৫৮ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ, শাকসবজি, পাটসহ অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে।

এদিকে রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ নিউজনাউকে জানান, আগামী মাসের ৪/৫ তারিখ পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ১ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ধরলা ও তিস্তার পানিও বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এসময় নদ-নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: