খোকন রাজাকারের দুই ভাগনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বহুল আলোচিত ও যুদ্ধাপরাধ মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকারের দুই ভাগনের বিরুদ্ধে এবার ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মানিলন্ডারিং এর মামলা হয়েছে। এছাড়াও চাঁদাবাজি মামলায় আরো দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

রবিবার (২৮ জুন) বিকালে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলী আদালতের বিচারিক হাকিম মো. ফারুক হোসাইন রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে দুইভাইকে দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরা হলেন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান ওরফে রুবেল।

সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার (২৬ জুন) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং এর অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকার কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, এই মামলাটি দায়ের করেছে সিআইডি, মামলাটির তদন্ত কাজ সিআইডিই করবে।

তিনি আরো বলেন, এ মামলায় ওই দুই ভায়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী ২০১৫ এর ৪(২) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল। এছাড়া মাদক কারবারি এবং ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসি নন এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজের, বিএমডব্লু গাড়ি মালিক হয়েছেন, এ টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, প্রথম জীবনে এই দুই ভাই রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে এক বিএনপি নেতার ফাই ফরমাস খাটতেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে তেমন কিছু ছিল না। ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর ওই এলাকায় এক আইনজীবী খুন হন। সে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এই দুই ভাই।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৮ জুন তিনি এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে এই দুই ভাই অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেছেন।

সিআইডি’র পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বলেন, মানিলন্ডারিং এর মামলায় এই দুই ভাইকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে। পরে আদালতে তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

এদিকে রবিবার ফরিদপুরে দুটি পৃথক মামলায় সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল আরও দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এনিয়ে পাঁচ দফায় এই দুই ভায়ের মোট ২২ দিন রিমান্ড হলো। ইতিমধ্যে চারটি মামলায় তারা ২০ দিন রিমান্ড খেটেছেন।

আদালত ফরিদপুরে বিআরটিসি বাসের কাউন্টার পরিচালক দুলাল লস্করের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাজ্জাদ হোসেন বরকতকে দুই দিন এবং সদর উপজেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম চৌধুরীর দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় ইমতিয়াজ হাসানকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে তিন দিনের রিমান্ড শেষ করে আদালতে সাজ্জাদ হোসেন সদর উপজেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম চৌধুরীর দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় এবং ইমতিয়াজ হাসান রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রিমান্ড শুনানির আগে রবিবার দুপুরে সাজ্জাদ ও ইমতিয়াজকে কড়া পুলিশ পাহারায় কোর্টে নিয়ে আসা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার মামলার আসামী হিসেবে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বরকত, রুবেল ও রেজাউল করিমসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, রবিবার দুপুরে বরকত ও রুবেলকে আদালতে হাজির করে দুটি পৃথক মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: