পানিবন্দী লালমনিরহাটের ৭ হাজার পরিবার

সজীবুল হক সজীব, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে প্লাবিত হয়েছে লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। ফলে জেলার ৫টি উপজেলার ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সাথে-সাথে পানিও বৃদ্ধি পেতে থাকে। দুপুর ১২টা ও ৩টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধরলা নদীর পানিও বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, গড্ডিমারী ও পাটিকাপাড়া, আদিতমারী উপজেলার পলাশী, মহিষখোচা, দক্ষিণ বালাপাড়া, কুটিরপাড় ও চর গোবর্দ্ধন এবং সদর উপজেলার কুলাঘাট, চর গোকুন্ডা, খুনিয়াগাছ, তিস্তা, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, তুষভান্ডার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত পানির তোড়ে চর গোকুন্ডা এলাকার ২৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ওই এলাকার কেউ কেউ নদীর হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিরাপদে চলে যাচ্ছেন।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় এলাকার মোজাফ্ফর হোসেন (৫৫) এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গত দু’দিন থেকে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটালেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কেউই তাদের খোঁজ খবর নেননি।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না এলাকার হামিজার রহমান (৬০) বলেন, শুক্রবার (২৬ জুন) থেকে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। বাড়ি ঘরে কোমর সমান পানি উঠে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বেকায়দায় আছেন বলেন জানান তিনি।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান নিউজনাউকে জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার ও কাকিনা ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন পানিবন্দী হয়েছেন। ভোটমারী ইউনিয়নের তালিকা পাওয়া গেছে অন্য দুই ইউনিয়নের তালিকার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ভোটমারী ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষজনের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন নিউজনাউকে বলেন, দু’টি ইউনিয়নের ৪ হাজারের মতো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দোয়ানী ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম নিউজনাউকে জানান, অতিবৃষ্টি আর উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলসহ তিস্তা তীরবর্তী এলাকার মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দুপুর ৩টার দিকে ব্যারাজ পয়েন্টে পানি  বিপৎসীমার ২০ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানান পাউবোর এই কর্মকর্তা।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর নিউজনাউকে জানান, এখন পর্যন্ত জেলার ৩টি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হয়েছেন এবং অনেক এলাকায় উপজেলা প্রশাসন থেকে তালিকা করা হয়েছে এবং কোথাও তালিকা করা হচ্ছে। তাদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যেই ৮০ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিউজনাউ/এবি/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: