সিদ্ধান্তহীনতা, নাকি সিন্ডিকেটের কবলে এভিয়েশন খাত!

মাহমুদুল হক:

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৬ জুন থেকে দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু করেছে। কিন্তু বিমান বাংলাশে এয়ারলাইন্সসহ মাত্র তিনটি বিমান সংস্থা যাত্রী পরিবহনের অনুমতি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ট্রাভেল এজেন্সি এবং যাত্রীরা। একদিকে যেমন বিমানভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে ফ্লাইট নিয়ে অনিশ্চয়তা। কিন্তু বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নীরব ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে, সিদ্ধান্তহীনতা নাকি সিন্ডিকেটের কবলে দেশের এভিয়েশন খাত!

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (ঢাকা-যুক্তরাজ্য-ঢাকা), কাতার এয়ারওয়েজ (ঢাকা-দোহা) এবং এমিরেটস এয়ারলাইনসকে (দুবাই-ঢাকা) বর্তমানে প্লাইট পরিচালনার করছে। জানা গেছে অনুমতির অপেক্ষায় আছে এয়ার এরাবিয়া, কুয়েত এয়ারওয়েজ, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, ওমান এয়ারওয়েজসহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা।

কিন্তু একদিকে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি অন্যদিকে মাত্র ৩টি বিমান সংস্থার সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা করার কারণে টিকিটের মূল্য বেড়েছে উচ্চহারে। তাই দ্রুত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বৃদ্ধি এবং অন্যান্য বিমান সংস্থাকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়া সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু বেবিচকের নীরবতায় অন্ধকারে রয়েছে পুরো বিষয়টি। জুলাই এসে গেলেও বিমান সংস্থাগুলো জানে না কবে তাদের অনুমতি মিলবে। ১ জুলাই থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সসহ বেশ কিছু সংস্থার ফ্লাইট চালু শুরুর কথা শোনা যাচ্ছিলো। সে অনুযায়ী শুরু হয় টিকিট বিক্রিও। কিন্তু হঠাৎ করেই গতকাল শুক্রবার ৬ জুলাই পর্যন্ত সব টিকিট বাতিল করেছে টার্কিশ এয়ারলাইন্স। ১৬ জুন বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল উন্মুক্ত করার পর তুরস্ক ভিত্তিক এই বিমান সংস্থা বাংলাদেশে বিমান চলাচলের অনুমতি প্রার্থনা করে আবেদন করে। অনুমতি না পেয়েও ১ জুলাই থেকে শুরু করে টিকিট বিক্রি। শেষ পর্যন্ত বেবিচকের সিদ্ধান্ত না আসায় ১ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিক্রিত সব টিকিট বাতিল ঘোষণা করে তারা।

এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে ট্রাভেল এজেন্সি এবং যাত্রীরা। এজেন্সিগুলোর দাবি তারা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের অনুমতি নিয়েই টিকিট বিক্রি করেছে এবং টিকিটের মুল্য বাবদ অর্থ ইতোমধ্যেই এয়ারলাইন্সের কোষাগারে জমা পড়েছে। সে কারণে ফ্লাইট বাতিল হলেও এজেন্সিগুলো মূল্য ফেরত না দেয়ায় বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। এ বিষয়ে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করা হলে, ফোন ধরেনি কেউই।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিয়ে নতুন নতুন এসব অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় যাত্রী সাধারণ এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলো অভিযোগের তীর তুলছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দিকে। কেউ বলছেন, বেবিচক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে, যে কারণে সমস্যা সমাধানে নির্দেশনা দিতে পারছে না। আবার কারও অভিযোগ সিন্ডিকেটের কারণে নির্দিষ্ট কিছু সংস্থার বাইরে অন্য কোনো বিমান সংস্থাকে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি বোঝার পরও চুপ করে আছে বেবিচক।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে বেবিচকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সবাই একসাথে একই সময়ে আবেদন করেনি। আবার সব বিমান সংস্থার প্রস্তুতিও এক নয়। এছাড়া যাত্রীদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির দিকেও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে। তাই ধাপে ধাপে সবাইকে অনুমতি দেয়া হবে।

তবে সাধারণ যাত্রী এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর প্রত্যাশা, দ্রুতই পদক্ষেপ নিবে বেবিচক, না হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিয়ে সংকট আরও বাড়বে।

নিউজনাউ/ এম এইচ/ ২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান