নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা অববাহিকায় বন্যা

নীলফামারী প্রতিনিধি: শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি নীলফামারী ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তাপাড়ের এলাকাবাসী জানায় গত ২০ জুন শনিবার তিস্তা এই মৌসুমে প্রথম বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। যা পরের দিন নেমে গেলেও শুক্রবার পুনরায় বিপদসীমা অতিক্রম করলো।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে তিস্তা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবিহিত হচ্ছিল। মধ্যরাত থেকে উজানের ঢল আর ভারি বর্ষণে তিস্তা পারের মানুষরা নির্ঘুম রাত কাটায়। সুত্রমতে শুধু ভারি বর্ষণ নয়, উজানে থাকা ৬৫ কিলোমিটার অদুরে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের জলকপাট খুলে দেয়ায় তিস্তায় দ্বিতীয় দফায় বন্যা রূপ নিয়েছে।

তিস্তা পারের প্রবীণদের বক্তব্য, মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের গতিপ্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের চেয়েও বেশি মনে হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজনাউকে বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড বাইপাস (ফ্লাড ফিউজ) এর কাছে ঢলের পানি এখনও ৩ ফিট নিচে থাকায় লাল সংকেত জারি করার পরিস্থিতি হয়নি। তবে হলুদ সংকেতের মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। সেই সাথে বাংলাদেশের উজানে ভারতের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি, সিকিম রয়েছে। সেখানে ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত আছে। সেই পানি তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র জানায়, শুক্রবার ডালিয়া পয়েন্টের তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৮ মিলিমিটার। গত দুইদিনে মোট বৃষ্টিপাত হয় ২২০ মিলিমিটার। ভারি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে সকাল ৬টা থেকে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বেড়েছে ২৫ সেন্টিমিটার।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী নিউজনাউকে বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা তিস্তা নদীর অববাহিকায় বসবাসরত মানুষজনের উপর নজরদারি করছি। এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। নীলফামারীর তিস্তা অববাহিকায় সরকারিভাবে প্রায় ১২ নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যখন যার প্রয়োজনে সেই নৌকাগুলো বন্যাকবলিত পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

তিনি সরকারি ত্রাণের বিষয়ে জানান পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী মজুদ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকায় যাতে পানির সংকট না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে।

নিউজনাউ/এসএ/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: