লকডাউনে ফাঁকা রাস্তা-ঘাট

শাহরিয়ার আলাউদ্দিন,বান্দরবান প্রতিনিধিঃ লকডাউনে রেড জোন বান্দরবান ও লামা দুটি পৌরসভায় ফাঁকা রাস্তাঘাট এবং হাট-বাজার।

সংক্রমণ রোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের কঠোর নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে সবধরনের দোকানপাট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন চলাচল। সড়কে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে মোড়ে মোড়ে পাহারা দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকরা।

তবে গনপরিবহণ বন্ধ থাকলেও শুক্রবার (২৬ জুন) লকডাউনের দ্বিতীয়দিনেও বান্দরবান পৌরসভায় ব্যক্তি মালিকানাধীন যানবাহন এবং মোটর সাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে সীমিত আকারে। যথারীতি খোলা রয়েছে ওষুধের দোকানগুলোও। পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক রেখেছে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে লকডাউন কার্যকরে বান্দরবান ও লামা দুটি পৌরসভায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। সংশ্লিষ্টদের কঠোর ভূমিকায় ফাঁকা হয়ে পড়েছে পৌর অঞ্চলের রাস্তা-ঘাট ও হাট-বাজারগুলো।

অপরদিকে পৌরসভা গুলোর নয়টি ওয়ার্ডে পাড়া মহল্লাগুলোতে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরদের তত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবক’রা জনসমাগম রোধে কাজ করছে।

মাইকিং করে এলাকাবাসীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাড়িতে অবস্থানের পরামর্শ দিচ্ছেন। মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার কাজ করছে প্রায় সাড়ে তিনশ স্বেচ্ছাসেবক।

বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মো: ইসলাম বেবী ও লামা পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম বলেন, পৌর অঞ্চলের নয়টি ওয়ার্ডেই স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে।

এলাকাগুলো বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর রাস্তা-ঘাট গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনে মানুষদের ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছেনা। প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং জিনিসপত্র স্বেচ্ছাসেবকরাই দোকান থেকে কিনে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে।

বন্ধ রাস্তারমুখে অবস্থান নেয়া স্বেচ্ছাসেবকরা এ্যাম্বুলেন্স, প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, ভ্রাম্যমান কাচা-বাজার, হোম ডেলিভারি পণ্যের গাড়ী’গুলো চলাচলে সহযোগীতা করছেন।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: শামীম হোসেন জানান, আজ শুক্রবার (২৬ জুন) দ্বিতীয় দফায় লকডাউনের ২য় দিনে লকডাউন কার্যকরে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। ওষুধের দোকান ছাড়া সবধরনের দোকানপাট এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রেড জোন অঞ্চলে প্রবেশ এবং বাহিরে যাবার পথও বন্ধ করা হয়েছে। এ লকডাউন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ২১ দিন চলমান থাকবে।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা: অংসুই প্রু মারমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৫৫ জন রোগী। করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে জেলায় দুজন।

নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: