দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের ধস

ডেভিড ইকরাম, সিউল,কোরিয়া:

বাংলাদেশ থেকে করোনার জাল সার্টিফিকেট নিয়ে ধরা খেলো জাপানে। জাপান কড়া অবস্থানে গিয়ে বন্ধ  করে দিলো বাংলাদেশিদের জাপানে যাওয়া।

এর পর বাংলাদেশ থেকে কিভাবে গত ১৭ই জুন বিশেষ ফ্লাইটে ১১জন বাংলাদেশি করোনা পজিটিভ নিয়ে কোরিয়ায় আসলো? এই ফ্লাইটে আগেও আরো দুটো ফ্লাইট এসেছে সেখানেও ২/৪ জনের পজিটিভ ছিলো।

বাংলাদেশে BOESL/ EPS  সেন্টার  তাহলে কি করলো ? যতদূর জানা যায় ঢাকাস্থ ইপিএস সেন্টার এ কাজগুলো সততার সহিত করলে আজ এ বিপর্যায়ে পড়তে হতো না বাংলাদেশকে।

কোরিয়াতে অনির্দিষ্টকালের জন্য  বন্ধ করে দিলো বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনা! এর সম্পূর্ণ দায় দায়িত্ব ঢাকাস্থ  ইপিএস সেন্টার সহ শ্রম মন্ত্রণালয় ও BOESL এর নয় কি?

অন্যান্য দেশ থেকেও কোরিয়াতে শ্রমিক আসছে কিন্তু সেই সব দেশের কেউই  করোনায় শনাক্ত হয়নি। ঐসব দেশ থেকে খুবই সতর্কতার সহিত পরীক্ষা করে শ্রমিক পাঠায়।  আর আমাদের দেশের কর্মকর্তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে!

শুধু  রেমিট্যান্সই নয়, ১৮ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত কোরিয়ান সব টেলিভিশনের নিউজে ছিলো বাংলাদেশ থেকে ১১ জন করোনা আক্রান্ত  আগমনের খবর! এখন বাংলাদেশি দেখলেই কোরিয়ানরা একটু থমকে যায়।

২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে আসা ইপিএস কর্মী ৮৫জন। ২০২০সালে আর কেউ আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অথচ বিগত বছর গুলোতে ১ হাজার ২০০ জনের বেশী, কোনো কোনো বছরে ১৫০০ বা ২০০০ জনের বেশী কোরিয়াতে এসেছে। কম করে ধরলেও ২০২০সালে কোরিয়াতে আসতে পারবে না ১১০০জন ইপিএস কর্মী। তার মানে ১১০০টা পরিবার নতুন ভাবে আর্থিক সচ্ছলতা থেকে বঞ্চিত হলেন।

কোরিয়া থেকে একজন খাঁটি ইপিএস কর্মী প্রতি মাসে সর্বনিম্ন  এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দেশে  পাঠাতে পারেন। যদিও কেউ কেউ দুই লক্ষ-আড়াই লক্ষ টাকা বা তার চেয়েও অনেক বেশী পাঠিয়ে থাকেন। একজন ইপিএস কর্মী কোরিয়াতে দুই ধাপে কমপক্ষে ৯বছর ৮মাস  অর্থাৎ ১১৬ মাস কোরিয়াতে চাকুরী করতে পারেন।

১,২০,০০০×১১৬(মাস)=১,৩৯,২০,০০০ টাকা একজন ইপিএস  কর্মী দেশে পাঠাতে পারতেন এবং দুই ধাপে তেজিকুম (পেনশন) পেতেন কমপক্ষে ১৪ লক্ষ টাকা। তেজিকুম (পেনশন) সহ  একজন ইপিএস কর্মী দেশে পাঠাতেন ১৩৯২০০০০+১৪০০০০০= ১,৫৩,২০,০০০ (১ কোটি ৫৩ লক্ষ ২০টাকা)।

১১০০জন ইপিএস  কর্মী পেতেন

১,৫৩,২০,০০০×১১০০=১,৬৮৫,২০,০০০০০ (১হাজার ৬শত ৮৫কোটি ২০লক্ষ টাকা)। এক কথায় বাংলাদেশ কোরিয়া প্রবাসী রেমিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হলো ১হাজার ৬শ ৮৫কোটি ২০লক্ষ টাকা।

পরিবার এবং দেশের এই ক্ষতির দ্বায় কার? জাপানের সাথে ঘটনা দেখেও কি আমাদের সতর্ক হওয়ার দরকার ছিলো না! কোনো ধরনের পরীক্ষা না করে চেনা মুখ, খাতিরের লোক, বা টাকার নিকট বিক্রি হয়ে করোনা বহনকারী কর্মী কোরিয়া পাঠিয়ে দেশের এ ধরনের ক্ষতি ও সুনাম ক্ষুন্নের জন্যে দেশের জনগণ আপনাদের বিচার চাইতেই পারে বা আমরা সুষ্ঠু তদন্তের  দাবী জানাই।

বর্তমানে সরকারের উচিত,বাংলাদেশ থেকে যারা এই ভাইরাস বহনকারী শ্রমিকদের দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় এনে কর্মস্থল থেকে বের করে দিয়ে কোরিয়া সরকারের সাথে যোগাযোগ করা। যাহাতে কোরিয়ান সরকার বুঝতে পারবে যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকার সতর্কতার সহিত শ্রমিক পাঠাবে। হয়তো বাংলাদেশের জন্যে কোরিয়ার দরজা খুলবে এই আমাদের প্রত্যাশা।

নিউজনাউ/টিএন/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান