সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৬ জুন থেকে দেশের আকাশপথ অবমুক্ত ঘোষনা দেয় বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়া হলেও আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে যাত্রীর চাপ বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু মাত্র তিনটি বিমান সংস্থা যাত্রী পরিবহনের অনুমতি পাওয়ায় বেড়েছে টিকিটের মূল্য। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (ঢাকা-যুক্তরাজ্য-ঢাকা)  এবং কাতার এয়ারওয়েজের (ঢাকা-দোহা) প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে ৮৬ দিন পর সচল হয় দেশের আকাশপথ। এছাড়া ২১ জুন থেকে দুবাই-ঢাকা রুটে ফ্লাইট শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা এমিরেটস এয়ারলাইনস। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে যাত্রী পরিবহন করছে এই তিনটি বিমান সংস্থা।

আর এতেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। করোনার কারণে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশ গমনেচ্ছুকদের অনিশ্চিত সময়ের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে যাত্রী চাপ বৃদ্ধিতে চলাচলের অনুমতি পাওয়া বিমান সংস্থাগুলোতে টিকিটের মূল্য বাড়ানো হয়েছে উচ্চহারে।

জাকিউল ইসলাম নামে এক যাত্রী জানান, জার্মানি থেকে দেশে এসেছেন গত জানুয়ারিতে। এপ্রিলে ফিরে যাবার কথা থাকলেও, করোনার কারণে ফেরা হয়নি। এখন বিমান চলাচল শুরু হলেও নিজের ফ্লাইট নিশ্চিত করতে পারেননি।

রাশেদ আলম নামের প্যারিসগামী আরেক যাত্রী জানান, অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্তমানে বিমান ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এমনটা থাকলে নিয়মিত যাতায়াত কঠিন হয়ে যাবে।

এদিকে যাত্রী পরিবহনের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে এয়ার এরাবিয়া, কুয়েত এয়ারওয়েজ, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, ওমান এয়ারওয়েজসহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা। এসব সংস্থার ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, জুলাইয়ের শুরুতে ফ্লাইট চালুর অনুমতি চওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আমাদের এখনও নিশ্চিত করেনি। তবে আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। আবার অনেক বিমান সংস্থা চলতি জুনেই ফ্লাইট শুরু করতে ইচ্ছুক।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে বেবিচকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিমান চলাচলেন অনুমতি দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সার্বিক করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে। তবে যে কয়টি বিমান সংস্থা প্রস্তুত ছিলো তাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অনুমতির অপেক্ষায় থাকা অন্যান্য বিমান সংস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, সবাই একসাথে একই সময়ে আবেদন করেনি। আবার সব বিমান সংস্থার প্রস্তুতিও এক নয়। এছাড়া যাত্রীদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির দিকেও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে। তাই ধাপে ধাপে সবাইকে অনুমতি দেয়া হবে।

এদিকে বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বিমান ভাড়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত। এ বিষয়ে বেবিচকের অন্তর্ভূক্তি নেই। তবে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট চলাচল এবং স্বাস্থবিধি মানতে মোট আসন সংখ্যার ৭৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেয়ায়, বিমান ভাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে। যেখানে একটি বিমান সংস্থা প্রতি সপ্তাহে গেড়ে ২০-২৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করতো, সেখানে মাত্র তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে- এ বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

তবে অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট চালু করলে এসব সমস্যা কেটে যাবে বলে মনে করেন বেবিচকের এই কর্মকর্তা।

নিউজনাউ/এমএইচ/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: