শাহজাদপুরে বাঁধ ভেঙ্গে ১৪ উপজেলা প্লাবিত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী থেকে তাড়াশের নিমাইচড়া পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চলনবিল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শাহজাদপুর উপজেলার রাউতারা স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকার ১ হাজার ২৫০ মিটার রিং বাঁধটি অবশেষে বন্যার পানির প্রবল শ্রোতে ভেঙ্গে গেছে। ফলে উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

প্লাবিত এলাকাগুলো হলো, বৃহত্তর চলনবিল অঞ্চলের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, সিংড়া, গুরুদাসপুর, আত্রাই, রাণীনগর, শেরপুর ও নন্দীগ্রাম

এসব অঞ্চলের হাজার হাজার গো-খামারে (বাথান) লালন পালন করা প্রায় ৩ লক্ষাধিক গবাদি পশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে খামারিদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দেশের দুগ্ধশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরসহ চলনবিলের খামারিরা তাদের গবাদি পশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় গো-খামারিরা জানান, ‘হঠাৎ করেই রাউতারা স্লুইচগেট সংলগ্ন এলাকায় রাউতারা-
নিমাইচড়া রিং বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়াসহ চলনবিলের প্রায় ৩
লক্ষাধিক গবাদি পশু নিয়ে গো-খামারীরা চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় ছিলো। ইতিমধ্যেই
এ অঞ্চলের গো-খামারিরা তাদের গবাদি পশুকে নিরাপদ সরিয়ে নিচ্ছে।

প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রতি বছরই ফসল রক্ষার নামে এই বালুর বাঁধ নির্মাণ করা হয়। প্রথম দিকে
অস্থায়ীভাবে এ বাঁধ নিমার্ণ ব্যয় ৯৯ লাখ টাকা হলেও গত কয়েক বছর ধরে এ ব্যয় বেড়ে প্রায়
দেড় কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার হরিলুট হচ্ছে। স্থানীয়রা এ হরিলুটের সাথে সংশ্লিষ্টদের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম স্থানীদের
এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিউজনাউকে বলেন, এ কাজে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়েছে। শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলের ১৪ উপজেলার ফসল রক্ষার্থে গত ২০ বছর ধরে অস্থায়ীভাবে এ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ বছরও করা হয়েছে। এ বাঁধের মেয়াদ কাল ধরা হয়েছিলো ৩১ মে পর্যন্ত। এ অঞ্চলের জমি থেকে সব ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাঁধটি ভেঙ্গে গেলেও কৃষকের কোন ক্ষতি হয়নি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস সালাম নিউজনাউকে বলেন, এ বছর বাঁধটির নির্মাণ কাজ অনেক দুর্বল হলেও আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরণের ফসলহানি হয়নি। বেশ
কিছুদিন আগেই এ এলাকার সব ধান কাটা হয়ে গেছে।

নিউজনাউ/এসএ/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: