শঙ্কার মধ্যেও হাড়িভাঙা আমে লাভের আশা সাড়ে ৩শ কোটি

জুয়েল আহমেদ, রংপুর ব্যুরো: বাজারে উঠেছে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাড়িভাঙ্গা আম। গাঢ় সবুজ হলদে রঙের এই রসালো আমের পরিচিতি দেশজুড়ে।

মহাদুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে আম নিয়ে নানা সমস্যায় কৃষক-ব্যবসায়ীরা। যদিও শুরুতেই প্রতি কেজি কাঁচা-পাকা আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আমের ভালো দাম পাওয়ার আশা সংশ্লিষ্টদের।

রংপুরের মেঠো পথের দুই ধারে সারি সারি আম গাছ। একরাশ সবুজের মাঝে যেন গাড় সবুজ ও কাঁচা হলুদের ফোঁটা। গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে থোকা থোকা আধপাকা আম বাতাসে দোল খাচ্ছে। প্রতি বছর ধানের জমিতে আমের চাষ বাড়ছে এই অঞ্চলে। চলতি মৌসুমে হাড়িভাঙ্গার ফলনও হয়েছে ভালো। বিঘা প্রতি ২০ হাজার টাকা খরচে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার আম বিক্রি হয়।

এবারো ব্যবসা সফল হওয়ার আশায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিপক্ব আম পাড়ার দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে পাকা আমের সুঘ্রাণ। আম হয়ে ওঠে নরম। গায়ে ধারণ করে লাল-হলুদ বর্ণ।

কিন্তু এবারই ঘটছে ভিন্ন! নির্ধারিত সময় ২২ জুন পার হলেও পাকছে না আম।অনেক ক্ষেত্রে গাছ থেকে পাড়ার ৭ দিনেও নরম হচ্ছে না আম ! গায়ে ধরছে না সেই লাল-হলুদ বর্ণও। সুস্বাদু জাতের আম বলে খ্যাতি থাকা পাকা আমেও থাকছে টক।

আম পাকার এই বৈপরীত্যে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছেন অধিকাংশ বাগান মালিক ও পাইকার ব্যবসায়ী। বছরের পর বছর আম ব্যবসা করেও এবার আমের মতিগতি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না তারা।

গত দেড় দশক ধরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে হাড়িভাঙ্গা। হাতে গোনা কয়েকদিনের মধ্যে আম পুষ্ট করে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু এবার এমনিতেই করোনা দুর্যোগ তার ওপর নেই আম সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে তারা রীতিমতো উদ্বিগ্ন।

মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ময়েনপুর গ্রামের আম চাষী মণ্ডল মিয়া (৪৫), খরশেদ মিয়া (৪০), ফেরদৌস (৪০) জানালেন, কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ২২ জুন থেকে আম পাড়ার নিয়ম থাকলেও নির্দেশনার তিনদিন পার হলেও এখনও আম পুষ্ট হয়নি। হাড়িলাঙ্গার পূর্ণ স্বাদ পেতে আরো দিন দশেক লাগবে।

বাজারে যে সমস্ত হাড়িভাঙ্গা উঠেছে তা পরিপক্ব নয়; করোনায় লকডাউন ভীতির কারণে অনেক বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে আম পেরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত দেড় দশক ধরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন তারা হাড়িভাঙ্গা। এবছর প্রথমবারের মতো এই পরিস্থিতির সাথে যুদ্ধ করছেন তারা।

গবেষক ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়ার চরম বিপরীতার কারণে এবারে হাড়িভাঙ্গার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ কারণে দেরিতে পাকছে আম ও সাইজেও হয়েছে ছোট। তবে লোভনীয় ও রসালো ফল আমের ঐতিহ্যবাহী স্বাদ, গন্ধ ও মিষ্টতা থেকে এবার বঞ্চিত হবেন ভোক্তারা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলায় ৮ হাজার ৬৬ হেক্টর আম বাগানের মধ্যে মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জে হাড়িভাঙ্গার বাগান গড়ে উঠেছে পাঁচ হাজার একশ হেক্টরে। এর মধ্যে শুধু হাড়িভাঙ্গার উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪০ টন। অন্যজাতসহ মোট ৭১ হাজার টন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলনে বিপর্যয় হয়নি। দামও পাচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। টাকার অংকে যার গড় মূল্য দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা।

জেলা প্রশাসক হাসিব আহসান জানিয়েছেন, হাড়িভাঙ্গার বাজারজাত ও পরিবহনসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই আমের মৌসুমজুরে থাকবে তাদের নজরদারি। আম কেনা-বেচাতে কৃষক, ব্যবসায়ীসহ ভোক্তারাও পাবেন প্রশাসনের সব সেবা।
নিউজনাউ/এফএফ/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: