দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি শ্রম বাজার সাময়িক স্থগিত!

যুথি ইকরাম,সিউল,কোরিয়া থেকে:

কোরিয়ান সরকার বাংলাদেশীদের নতুন ভিসা প্রদান এবং অনিয়মিত বিমান চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন। ২৩শে জুন থেকে সে দেশের সরকার এই সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আগতদের মধ্যে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেশি থাকাকে তাঁরা কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। কোরিয়ার কেন্দ্রীয় দুর্যোগ সুরক্ষা প্রতিক্রিয়া সদর দপ্তরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে আগতদের মাঝে কোভিড-১৯ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার অনুপাত অনেক বেশী। কোরিয়ার জন্য সাবধানতামূলক ব্যবস্থা কার্যকর  করার জন্যই তাঁরা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাংলাদেশিদের নতুন ভিসা প্রদান করা বন্ধ থাকার কারণে কোরিয়ান মালিকেরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশিদেরকে ইপিএস কর্মী হিসাবে তাঁদের কোম্পানিতে নিয়োগ দিতে পারবেন না এবং বিমান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে যে সব কোরিয়ান মালিকেরা ইতিপূর্বে তাঁদের কোম্পানিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে কর্মী মনোনীত করেছিলেন তাদেরকেও বাতিল করে যে সব দেশের লোক কোরিয়ায় আসতে নিষেধ নেই সেই সব দেশের কর্মী নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিভিন্ন দেশ থেকে কোরিয়ান মালিকদের মনোনীত ইপিএস কর্মী যারা ফ্লাই করার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা আগস্ট/সেপ্টেম্বর থেকে কোরিয়াতে আসা শুরু হবে। তবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া থেকে মনোনীতরা আসতে পারবেন না। তাঁদের জরিপে এই তিন দেশ থেকে আগতরা অনিরাপদ বিবেচিত হয়েছেন। এই ঘটনা অনেককেই সৌভাগ্য বঞ্চিত করবে এবং বাংলাদেশকে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

কোরিয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে কোরিয়াতে আটকা পড়ার ভয়ে অনেকেই মাতৃভূমিতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পুনরায় তারা কোরিয়ায় আসার জোর আগ্রহ প্রকাশ করলে কোরিয়ান সরকার বিশেষ বিমানের মাধ্যমে কোরিয়ায় আসার অনুমতি প্রদান করেন।

তবে সে ক্ষেত্রে যাতে করোনায় আক্রান্ত কোনো রোগী কোরিয়ায় আসতে না পারে সে জন্য কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসতে বলেন। কিন্তু অন্যান্য দেশ থেকে প্রক্রিয়াগুলি অনুসরণ করে বিশেষ বিমানে কোরিয়ায় আসলেও তাদের মধ্যে কোরিয়াতে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আগতদের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আগতদের ২৩ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে যেখানে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসায় নেপাল, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগতদের মধ্যে করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেল না সেখানে বাংলাদেশ থেকে আগতদের মধ্যে এত বেশী লোকের পজিটিভ পাওয়া গেল কেন? এ বিষয়টি কোরিয়ার বিভিন্ন নিউজ পেপারে এসেছে এবং অসংখ্য কোরিয়ান সেখানে কটাক্ষ ও তাচ্ছিল্যমুলক মন্তব্য প্রকাশ করেছেন যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

বাংলাদেশ থেকে সঠিকভাবে যদি অন্যান্য দেশের মত বিশেষ বিমানে যাতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কেউ যেতে না পারে সেই বিষয় মাথায় রেখে সঠিক ভাবে যাচাই বাছাই করে প্রক্রিয়া গুলি অনুসরণ করা হতো তাহলে এতোবড় বিপর্যয় সৃষ্টি হতো না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজনাউ/টিএন/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান