মাছ ধরা বন্ধ, মানবেতর দিন কাটছে উপকূলের জেলেদের

এম কে রানা: একদিকে মাছ ধরা বন্ধ, অন্যদিকে কাজও করতে পারছে না পটুয়াখালীর জেলেপল্লীর জেলেরা। সরকারি চাল ছাড়া মিলছে না অন্য কোন সহযোগিতা। এ অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে জেলে পল্লীর মানুষগুলোর।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় মোট ৬৯ হাজার ৯৬০ জন জেলে রয়েছেন। এরমধ্যে ৫৩ হাজার ৭১৯ জন নিবন্ধিত ও ষোল হাজার ২৪১ জন অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, কুয়াকাটা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালীর সাগর পাড়ে ১৫ থেকে বিশ হাজার জেলে রয়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ নিউজনাউকে বলেন, পটুয়াখালী জেলার ৬৯ হাজার ৬০ জন জেলের প্রায় ৪৬ হাজার জেলে ভিজিএফ এর বিশেষ চাল পান। বাকিদের এ সাহায্যের আওতায় আনতে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তবে এর তালিকা অনেক আগে তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকায় যেমন প্রকৃত মৎস্যজীবী নেই তেমনি অনেক সাগরে মাছধরা প্রকৃত মৎস্যজীবীদের নাম বাদ পড়েছে। ইতোমধ্যে ওই তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে।

কুয়াকাটাসহ স্থানীয় এসব জেলেদের অধিকাংশই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন (ঋণ) ও উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী দাদন (ঋণ) ও সুদের টাকাও পরিশোধ করতে হবে। সংসারের ব্যায়ভার বহন, দাদন ও সুদের টাকা শোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অধিকাংশ জেলে। আয়-রোজগারহীনভাবে দীর্ঘদিন বেকার সময় কাটানোর ফলে অনেকের ঘরের চুলায় এখন আগুন জ্বলছে না। এ অবস্থায় উপকূলীয় জেলে পল্লীগুলোতে চলছে চরম হাহাকার।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছরের একটি নির্দিষ্ট সময় সাগরে সব ধরণের মাছ শিকারের ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এ বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ৬৫ দিনের অবরোধ ঘোষণা করা হয়েছে। সে কারণে বর্তমানে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে।

কুয়াকাটায় ”আঁশার আলো” জেলে সমিতির সম্পাদক মোসারেফ মৃধা বলেন, মৎস্য বিভাগ ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার আগ থেকেই করোনার কারণে উপকূলীয় এলাকায় সাগরে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ ছিল। করোনার প্রভাবে গত ২৬ মার্চ দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষিত হওয়ায় বরফ সংকট ও মাছ চালান দিতে না পাড়ায় অনেক জেলেই মাছ ধরতে যাননি। এরপর আবার লকডাউন শিথিল হলেও মাছধরার উপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এতে মাস তিনেক ধরে ইলিশ ধরা বন্ধ রয়েছে উপকূলের জেলেদের। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না তারা।

জেলেদের দাবি শুধু চাল দিয়েই কি সংসার চালানো যায়। অসুস্থতায় টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছে না বলেও দাবি করে তারা।

নিউজনাউ/এসএ/২০২০

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: