NewsNow24.Com
Leading Multimedia News Portal in Bangladesh

রাবিতে শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুমের অবদান অস্বীকার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এমএ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের দুই দিনব্যাপী প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিভাগের প্রতি অবদান এবং দেশের প্রতি অবদানের জন্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রওশন আলী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিভাগের সভাপতি ও ১ম পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. এনামুল হক।

তবে অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারকে রাখা হয়নি ওই বিভাগের শিক্ষক শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুমকে। কেন রাখা হলো না এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং উদযাপন কমিটির সদস্যবৃন্দরা। এতে শহীদের অবদান অস্বীকার করা হয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।

আবার অনেকেই বিভাগীয় সভাপতি কে বিএনপি জামায়াতের কর্ণধার আখ্যা দিয়ে তিনি ইচ্ছে করে তাঁর নাম বাদ দিয়েছেন বলে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ নিয়ে বিভাগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের অনেকেই সম্মাননা স্বারক কেন মীর আব্দুল কাইয়ুম কে দেয়া হয়নি এ প্রশ্ন তুলে তারা প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান বর্জন করে অনুষ্ঠানে আসেননি।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি ও ১ম পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. এনামুল হক বলেন, ‘পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটিই বাস্তবায়িত হয়েছে। এখানে আমার নিজস্ব কোন মতামতের ভিত্তিতে হয়নি।’

পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির সদস্য ড. মো. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘একাডেমিক কমিটিতে সম্মাননা স্বারক কাদের দেয়া হবে এটা নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। তবে দুজন ব্যক্তিকে সম্মাননা দেয় হবে এ বিষয়ে সিনিয়র শিক্ষকরা বলেছিলেন।’

তিনি আরও দু:খ প্রকাশ করে বলেন, যেহেতু এর আগে শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুম স্যারকে বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন সম্মাননা দেয়া হয়নি। সেই প্রেক্ষিতে বিভাগের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সম্মানানা দেয়া অবশ্যই উচিৎ ছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনকারী একজন শিক্ষক সুলতান-উল ইসলাম বলেন, ‘শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুম অবশ্যই স্বীকৃতি বা সম্মাননা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বিভাগ এবং উদযাপন কমিটি কিসের ভিত্তিতে দিয়েছে সেটা আমি জানি না। তবে ওনাকে সম্মানিত করতে পারলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানিত হতো বলে আমি মনে করি।’

মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুমের মেয়ে মাহবুবা কানিজ কেয়া বলেন,   আমি উদযাপন কমিটির সদস্য না এবং আমি জানিও না এটা কারা করেছে তবে আমি এ উদযাপন কমিটিকে ধিক্কার জানাই। আমার বাবার যে অবদান সেটি বুদ্ধিজীবীর পরিবার হিসাবে আমরা গর্ববোধ করি। এখন তাকে যারা অমর্যাদা করেছে আমি মনে করি তাদের এটা মানসিক দৈনতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন যে শহীদকে নিয়ে আমরা সবসময় গর্ববোধ করি তাদের মধ্যে অন্যতম শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুম স্যার। এখন আমরা যদি তাদের সম্মান না করতে পারি। তাহলে আমাদের চরম ব্যার্থতা এবং চরম লজ্জার বিষয়।’

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘স্যারের সাথে যেটা হয়েছে সেটা কখনও মেনে নেয়ার মত না। হয়ত একাডেমিক দায়িত্বে বা উদযাপন কমিটিতে যারা ছিল তাদের একটা আদর্শিক দ্বন্দ থাকতে পারে। তাই বলে স্যারের প্রতি এমন অবমাননা করা ঠীক হয়নি।’

পুনর্মিলীতে আসা বিভাগের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘গতকাল অনুষ্ঠানের প্রথম দিন যখন সম্মাননা স্বারক প্রদানে শহীদ কাইয়ুম স্যারের নাম উল্লেখ করা হলো না। তখন আমি খুব ব্যথিত হয়েছি। তখন আমি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে বলেছি তখন তারা আমাকে বলেছে এটা আমরাও জানতাম না। এগুলো সভাপতি নিজেই করেছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুম বাংলাদেশ এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গর্ব। এখন বিভাগ কিসের ভিত্তিতে সম্মাননা প্রদান করেছে আমার জানা নেই। সেজন্য আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

প্রসঙ্গত, শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুম ১৯৬৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর ১৯৭১ সালের ২৫শে নভেম্বর রাজশাহী শহরের বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে পদ্মার চরে অন্যদের সাথে জীবন্ত কবর দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আপনার মতামত জানান

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More