NewsNow24.Com
Leading Multimedia News Portal in Bangladesh

মৌলভীবাজারে আমন ক্রয়ের তালিকায় নয়ছয়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

এম এ মোহিত, মৌলভীবাজার থেকে: মৌলভীবাজারের রাজনগরে সরকারি ভাবে আমন ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের লোকজনের সাথে সিন্ডিকেট করে একটি চক্র প্রকৃত আমন চাষীদের বাদ দিয়ে কৃষক তালিকা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, এবছর সরকারি ভাবে উপজেলা থেকে ১ হাজার ৪১৭ টন আমন ধান ক্রয়ের লক্ষে উপজেলার সাড়ে ৯ হাজার কৃষকের মধ্যে লটারি করে ১ হাজার ৪১৭ জন কৃষক মনোনীত হন।

প্রন্তিক কৃষকরা অভিযোগ করেন, মূল তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের অন্তভূক্ত করা হয়নি। বরং মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজসে গড়ে ওঠে একটি সিন্ডিকেট। এই চক্র আমন চাষীদের বাইরে বোরো চাষী, সবজি চাষীদের কৃষি কার্ড কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে এদের তালিকাভূক্ত করে।

তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, একজন কৃষকের নাম একাধিকবার এসেছে। একই মোবাইল ফোন নাম্বার ব্যবহার করেছেন একাধিক জন। এরমধ্যে ১টি ফোন নাম্বার ব্যবহার করেছেন ৫৭ জন। উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের ১৫৮ জন কৃষকের অর্ধেকের বেশী ভুয়া।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ একটি চক্র আমন চাষ করেনি এমন চাষীদের কার্ড অল্প টাকায় ক্রয় করে বিক্রেতা তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করেছে। শুধুমাত্র ফতেহপুর ইউনিয়নে লটারিতে অংশ নেয় ২২৫ জন কৃষক। এরমধ্যে মনোনীত হন ৩৬ জন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে যাচাই করে দেখা যায় এরমধ্যে ২০ জনই ভূয়া। যাদের আমন চাষ নেই আবার কেউ কেউ বিদেশে থাকেন। যাচাই বাচাই করে যারা ভূয়া তাদের বাদ দেয়া হচ্ছে বলেও জানায় কৃষিবিভাগ।

ফতেহপুর ইউনিয়নের কৃষক জালাল মিয়া বলেন, যারা মনোনীত হয়েছে তাদের অধিকাংশের কৃষি কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। কেনো কোনো কৃষককে ৪০০-৫০০ টাকা উৎকোচ দিয়েও কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে। এসব কার্ড যখন লটারিতে মনোনীত হবে তখন সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে অল্প টাকায় ধান কিনে সিন্ডিকেট করে সরকারের কাছে বেশি দামে ধান বিক্রি করে দিচ্ছে।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো.শাহাদুল ইসলাম তালিকায় অসংগতির অভিযোগ স্বীকার করে জানান, লটারীতে নির্বাচিত কৃষক তালিকা অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত আমন চাষী না হলে কার্ড জব্দ করা হচ্ছে। এরমধ্যে অনেক কার্ড জব্দ করা হয়েছে। আর তালিকা তৈরী করার কাজে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে।

উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। অনিয়মের অভিযোগ শোনার পর আমন ধান বিক্রয়ের আরেকটি কৃষক তালিকা তৈরীর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লটারিতে যারা মনোনীত হয়েছেন যাচাই বাচাই করে প্রকৃত চাষীদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। পরবর্তীতে সংশোধিত তালিকা থেকে আরেকটি লটারীর করা হবে। তখন আর প্রকৃত আমন চাষীরা বঞ্চিত হবেন না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আপনার মতামত জানান

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More