বই মেলায় আসছে কল্লোলের আত্মপ্রতিকৃতি

শব্দের সাধ্য কী অনুভূতি বোঝায়!
এই কথাটি খুব বিশ্বাস করি আমি। আর করি বলেই নিঃসঙ্গ রাত্রির বুকের গহীন থেকে নিঙড়ে আসা সুক্ষ্ম কোনো দুঃখ যখন আঁকড়ে ধরে, তখন চুপ করে থাকি নিজের ভেতর। নিজের সাথে কথা হতে থাকে অবিরাম। সেই কথাই কি কবিতা? হয়তো, হয়তো না। কবিতাতো কথাই। কিন্তু সকল কথাই কি কবিতা?

‘মৃত্যুর আগে মানুষ জেনে যায়, চলে যাওয়ার সংবাদ-
একজন কবি লেখার মুহূর্তেও জানতে পারেনা কি লিখতে হবে,
কারণ ঈশ্বরের ভর হয়, সে সময়, কবি ও কবিতায়।‘
হাসিবুর রেজা কল্লোলের কথাগুলো এই প্রশ্নের এক দুর্দান্ত জবাব। পড়তে গিয়ে মনে হয় নিজেকেই পড়ছি, খুব চেনা অথচ অচেনা নিজেকেই নতুন করে আবিস্কার করছি। এ যেন নিজের ভেতর অনাবস্কৃত এক ‘এল ডো’র‍্যাডো। এখানে কত শত উপলব্ধির, অনুভূতির মুক্তো দানা এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কে জানতো!
‘পুড়ে পুড়ে স্রষ্টাকে পূর্ণতা দেয়াটাই সৃষ্টির শেষ কর্তব্য…’
কিংবা
ভরা ফসলের গান বুকে নিয়ে
চন্দ্রাহত প্রেমিক ঘরে ফিরে যায়
সারাটি রাত্রি তারার সাথে তারার
খুনসুটি দেখবে বলে!’

কিংবা

‘যদি হয়-
এই রাতটিই আমার জীবনের শেষ রাত!
পিতার প্রেমভরা জীবনের শেষ কবিতা মুছে
সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে পিতাকে!
আমার স্তব্ধ পুত্র ভুল গণিতে গুনবে-
কতবছর বইতে হবে তাকে কলংকিত পিতার অস্তিত্ব…!’

হাসিবুর রেজা কল্লোল-কে আমি বলি পাথুরে বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক আশ্চর্য জলজ জগত। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো, ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়’। আর হাসিবুর রেজা কল্লোলের বাইরের পাথুরে অবয়বে যে ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে অহর্নিশ ফিরে আসে, সেই প্রতিধ্বনি জানে না, তিনি পাথুরে বুকের ভেতর অবিরল বয়ে বেড়ান ছলছল জলের শব্দ। সেই ছলছল জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ শুনতে আলগোছে, নিরালায় কান পাততে হয় তাঁর কথা ও কবিতায়। শব্দ কিংবা নৈঃশব্দ্যেও।

হাসিবুর রেজা এর শব্দগুলোকে তাই মনে হতে থাকে অনুভবের সোনাঝড়া ফসলের মাঠ। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, সেই শব্দচাষে সৃষ্টি হতে থাকে এক আশ্চর্য নৈঃশব্দ্য। আর কে না জানে নৈঃশব্দ্যই অনুভূতির গভীরতম স্রষ্টা। তীব্রতম স্পর্শ। সেই স্পর্শে ক্রমশই স্পর্শিত হতে থাকে মন ও মানুষ, ভাবনা ও ভুবন।

(ফেসবুকের টাইমলাইন থেকে নেয়া)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান