কিন্ডারগার্টেন স্কুলে চলছে রমরমা বাণিজ্য

মোঃ সোহেল রানা, মানিকগঞ্জ থেকে: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো ভর্তি বাণিজ্য, বইখাতা বিক্রিতে ব্যস্ত থাকলেও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদানে ব্যস্ততা নেই। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর মিল নেই।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো গড়ে উঠেছে সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই। স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযোগী নয় অধিকাংশ বিদ্যালয়ের ভবন। জায়গা বা বিল্ডিংয়ের দুই একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে গড়ে ওঠা স্কুলগুলোর শ্রেনী কক্ষগুলো শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অনুপযোগী। নেই কোন খেলার মাঠ, নেই পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেট।

৪- ১০ বছর বয়সী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব স্কুলে পড়াশোনা করলেও কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, নেই কোন অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। এছাড়া শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নেই খেলাধুলা করার স্থান ও বিনোদনের ব্যবস্থা, নেই আলাদা ক্যাম্পাস।

স্কুলে পাঠদান কার্যক্রম শুরুর পুর্ব মুহুর্তে অনেক বিদ্যালয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ানো হয়না শিক্ষার্থীদের এছাড়াও অনেক বিদ্যালয়ে উত্তোলন করা হয়না জাতীয় পতাকা।

শিবালয় কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী উপজেলাতে ৪২/৪৩ টি স্কুল রয়েছে বলে জানানো হলেও নামে বেনামে গড়ে উঠেছে আরো ২০/২৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানগুলো অনুগত পাবলিকেশনর বই ব্যবহার করছেন। এক প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের সাথে কোন মিল নেই। এমনকি দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে কোন প্রকার মিল না রেখেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে।

বেশীর ভাগ কিন্ডারগার্টেন গুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নানা কৌশলে জিম্মি করে নির্ধারিত বাজার মুল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী দামে বই, খাতা, কলম ডায়েরি কেনাতে বাধ্য করছেন কতৃপক্ষ। স্কুল ভেদে প্লে, নার্সারী, কেজির শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে অভিভাবকদের গুনতে হচ্ছে ১৫০০- ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। মাসিক বেতন প্রতিষ্ঠান ভেদে ৩০০- ১০০০ টাকা পর্যন্ত। কোচিং ফ্রি এবং টিউশন ফ্রি বাবদ অভিভাবকদের মাসে আরো গুনতে হচ্ছে দেড়- দুই হাজার টাকা পর্যন্ত।

এদিকে প্রথম শ্রেনীতে থেকে সরকারি বই বিনামূল্যে দেওয়া হলেও বই আনা- নেওয়ার খরচ দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে দুই- থেকে তিনশত টাকা। শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করানোর সময়ে কতৃপক্ষ নানা- ধরনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভর্তির পরে বেশী ভাগ প্রতিশ্রুতি পালন করছেনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশীর ভাগ শিক্ষক পাঠদানের ক্ষেত্রে যেমন অপ্রশিক্ষিত ঠিক তেমনি শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও অষ্টম – এইচএসসি পাশ পর্যন্ত।

কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর এহেন কর্মকান্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
অন্যদিকে এখানকার স্কুল-কলেজের প্রবীণ শিক্ষকসহ বিশ্লেষকেরা বলছেন, ব্যবসা ভিত্তিক এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার মান দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ার আশংকা করছেন। নিয়ন্ত্রণহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার অন্তরায় ও অল্প সময়ের মধ্যেই বেশীর শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ে যেতে পারে শিক্ষাগ্রহণ থেকে অভিমত বিশ্লেষকদের।

বিশ্লেষকরা বলেন, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এখনই এসব প্রতিষ্ঠানের লাগামটেনে ধরতে না পারলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক লেভেল থেকে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধ করা যেমন সম্ভব হবেনা ঠিক তেমনি মান সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান