NewsNow24.Com
Leading Multimedia News Portal in Bangladesh

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মিল্কি হত্যা মামলার বিচার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নিউজনাউ ডেস্ক: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে হত্যা করা হয় প্রায় ৯ বছর আগে। সাড়ে তিন আগে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য শুরু হয়। ৭৫ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র চারজন সাক্ষ্য দেন। আদালত থেকে সাক্ষীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও কেউ সাক্ষ্য দিতে আসছেন না। সাক্ষী না আসায় আলোচিত এ হত্যা মামলাটির বিচার কার্যক্রম থমকে আছে। এমন অবস্থায় মামলাটি বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার দুই নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।

মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গত ২১ মার্চ ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এ বদলির আদেশ দিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়। এর আগে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ঢাকার ৫ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে চলছিল। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, যুবলীগ নেতা মিল্কি হত্যা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এ বদলির আদেশ দিয়েছেন মন্ত্রণালয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মিল্কি হত্যা মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। কিন্তু সাক্ষীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও তারা সাক্ষ্য দিতে আসছেন না। আমরা সাক্ষীদের আদালতে হাজিরের চেষ্টা করছি। আশা করছি, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে পারবো।

ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এ এফ রেজানুর রহমান রুমেল বলেন, যুবলীগ নেতা মিল্কি হত্যা মামলাটি আমাদের আদালতে বিচারাধীন ছিল। মামলার সাক্ষীরাও আদালতে আসতে শুরু করছিলেন। গত ২১ মার্চ মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন মন্ত্রণালয়। এখন থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচারকি কার্যক্রম চলবে।

ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শওকত জামান বলেন, গত ২১ মার্চ মিল্কি হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এ বদলির আদেশ দিয়েছেন মন্ত্রণালয়। আমরা মামলাটির নথি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে-২ এ পাঠিয়ে দেবো।

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ড নামে একটি বিপণিবিতানের সামনে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই বিপণিবিতানের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র দেখে মিল্কির একসময়ের সহযোগী যুবলীগের আরেক নেতা জাহিদ সিদ্দিকী তারেকসহ ভাড়াটে খুনিরা তাকে হত্যা করে বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ওই ঘটনায় মিল্কির ছোট ভাই রাশেদুল হক খান বাদী হয়ে গুলশান থানায় এজাহারনামীয় ১১ জন এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক কাজেমুর রশিদ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে মূল আসামিদের নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ না করার অভিযোগে ২০১৪ সালের ৯ জুন মামলার বাদী ও নিহত মিল্কির ভাই রাশেদ হক খান মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়ার আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত ২০১৪ সালের ১৭ জুন আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (সিআইডি) উত্তম কুমার বিশ্বাস অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আগের অভিযোগপত্রে ১১ আসামির সঙ্গে আরও সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল এবং নয়জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেন। মামলায় সাক্ষী করা হয় ৭৫ জনকে।

২০১৬ সালের ১৪ মে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেন। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার ৫নং অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ১৮ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪/১০৯/২১২/১২০ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

১৮ আসামি হলেন- সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, আমিনুল ইসলাম ওরফে হাবিব, সোহেল মাহমুদ ওরফে সোহেল ভূঁইয়া, চুন্নু মিয়া, আরিফ ওরফে আরিফ হোসেন, সাহিদুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, জাহাঙ্গীর মণ্ডল, ফাহিমা ইসলাম লোপা, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, শরীফ উদ্দিন চৌধুরী ওরফে পাপ্পু, তুহিন রহমান ফাহিম, সৈয়দ মুজতবা আলী প্রকাশ রুমী, মোহাম্মদ রাশেদ মাহমুদ ওরফে আলী হোসেন রাশেদ ওরফে মাহমুদ, সাইদুল ইসলাম ওরফে নুরুজ্জামান, সুজন হাওলাদার, ডা. দেওয়ান মো. ফরিউদ্দৌলা ওরফে পাপ্পু ও মামুন উর রশীদ।

তাদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, ফাহিমা ইসলাম লোপা, শরীফ উদ্দিন চৌধুরী ওরফে পাপ্পু ও সৈয়দ মুজতবা আলী প্রকাশ রুমী পলাতক রয়েছেন।

নিউজনাউ/এবি/২০২২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আপনার মতামত জানান

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More