NewsNow24.Com
Leading Multimedia News Portal in Bangladesh

উত্তরে মাঘের শীতে বাঘের সাথে মানুষও কান্দে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

জুয়েল আহমেদ, রংপুর থেকে: হাড় কাপানো শীত আর হিমালয়ের বরফ ফোটানো বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনজীবন। এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। বাতাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ আর্দ্রতা কাছাকাছি আসায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। তাপমাত্রা আরও নেমে যাওয়ার শঙ্কাসহ এই অবস্থা কমপক্ষে আরো তিনদিন অব্যাহত থাকার কথাও বলেছেন তারা।

শনিবার সকালে রংপুরে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

‘মাঘের শীতে বাঘ কান্দে’ রংপুর অঞ্চলের এই প্রবাদ যেন সত্যি হয়েছে। মধ্য মাঘে শীতের এই দাপটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে প্রকৃতি। সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় দিনে-রাতে অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডা।

হিমেল হাওয়াসহ কনকনে শীতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমাহীন কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষকে। শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীরের উঞ্চতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন দরিদ্র পরিবারের লোকজন। এমন আবহাওয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।

No description available.

শীতের তীব্রতায় সকাল থেকে রংপুর নগরীতে মানুষের সমাগম কমে যায়। কমে গেছে যানবাহন চলাচল। হিমালয়ের বরফ গলা বাতাসে শীত যেন আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে মানুষসহ পশুপাখিকে। কুয়াশাও পড়ছে বৃষ্টির মতো। বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরতে থাকায় রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে মারাত্মকভাবে। বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, ঘটছে প্রাণহানিও।

অন্যান্য বছর ডিসেম্বরের শুরু থেকে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়লেও এ বছর শীত নেমেছে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে। জানুয়ারিতে নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে এখন তা অনেকটা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে গত দু’দিন ধরে ঘন কুঁয়াশাসহ হিমেল হাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ কাহিল হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষজন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে রংপুরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। বাতাসের আর্দ্রতা কাছাকাছি হওয়ায় বায়ুমন্ডল উত্তপ্ত হতে না পারায় সূর্যের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিনতিতে আবারো শীত জেঁকে বসেছে। শৈত্যপ্রবাহ আরও দুই-তিনদিন থাকতে পারে।

এদিকে, জেলা প্রশাসক আহিসব আহসান জানিয়েছেন, শীত দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুৃতি রয়েছে তাদের। ইতোমধ্যে নগরির ৩৩ ওয়ার্ডসহ জেলার আট উপজেলা ও তিন পৌর এলাকায় সকারিভাবে ৫২ হাজার কম্বল ও শীতবস্ত্র কেনার জন্য পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া গেছে আরো বরাদ্দ। এছাড়া নতুন বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

নিউজনাউ/এবি/২০২২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আপনার মতামত জানান

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More