NewsNow24.Com
Leading Multimedia News Portal in Bangladesh

সাদা হাতির পিঠে চড়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মহবুবুর রহমান:  ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীরা যখন গণহত্যা ও ধর্ষণ করে লাখ লাখ মুক্তিকামী নিরীহ নিরাপরাধ বাঙালিদের যখন নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তখন যুক্তরাষ্ট্রের মানবধিকার কোথায় ছিল,বরং তাঁদের সহযোগিতায় পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠি বাংলাদেশে নৃশংসভাবে গণহত্যা ও ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে।

পৃথিবীর যে সকল দেশ নিজস্ব শক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে মাথা উচ্চ করে দাঁড়াতে চাই,তখনই সেই দেশকে দাবিয়ে রাখতে চাই পৃথিবীর ধণী রাষ্ট্রগুলি। পৃথিবীর ভৌগলিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে,নতুন অর্থনীতির মেরুকরণ হতে চলেছে,যেখানে চীন ,ভারত এবং বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।

ব্যাবসা-বানিজ্য মেরুকরণের সাথে সাথে,পরাশক্তির নতুন জোট রাশিয়া, চীন ও ইরান সামনের দিকে এগিয়ে চলছে।এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে নতুন মার্কেট খুঁজে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে,অন্যদিকে চীন বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসাবে উদীয়মান এবং বিশ্বের বেশীর ভাগ ব্যবসা-বানিজ্যে চীনের আধিপত্য বিস্তার করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইর্ষান্বিত হয়ে রাশিয়া, চীন এবং বাংলাদেশের উপর মানবধিকার সহ গণতন্ত্রের অজুহাত দিয়ে নতুন অর্থনৈতিক উদীয়মান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্য দেশগুলির সামনে প্রশ্নবোধক করে তুলতে নতুন রাজনীতির কৌশল অবলম্বন করছে। কিন্তু তাঁদের মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ এখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং বিশ্বের দরবারে এখন আত্মমর্যাদা সস্পূন্ন জাতি হিসাবে পরিচিত।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেছে, এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের তাবেদারি না করে,স্বাধীন বাংলাদেশকে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড় করাতে কাজ শুরু করে ছিলেন ,ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারকে হত্যা করা হয়।

বাঙালী জাতি হারায় তাঁর জাতির শ্রেষ্ট স্বপ্নপুরুষকে।দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন ভেঙ্গে খন্ডিত হয়,অন্ধকার নেমে আসে ধর্মনিরপক্ষ বাংলাদেশে এবং দেশ শাসনের দায়িত্ব ভার দেওয়া হয়
যুক্তরাষ্ট্রের পুরানো বন্ধু পাকিস্তানীদের ছত্রছায়ায় লালিত স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে।বাংলাদেশ শাসন এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধ নষ্ট করে নতুন প্রজন্মকে ভিন্ন ধারায় পরিচালিত করে ইসলামী গণতন্ত্র নামধারী শাসকরা,তাঁরা তাঁদের নীল নকশা বাস্তবায়ণ করে দীর্ঘ ২১বছর ধরে।

যার মাধ্যমে এদেশের একটি বিশাল সংখ্যক জনগণকে সুকৌশলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল চেতনা থেকে অনেক দুরে সরিয়ে নিয়ে যায়,সামরিক ব্যারাক থেকে জন্ম নেওয়া বিত্রনপির প্রতিষ্ঠার মূল হোতা মেজর জিয়াউর রহমান এবং জাতীয় পার্টির প্রয়াত নেতা সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এবং শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে বংলাদেশ এগিয়ে চলছে উন্নায়নের জোয়ার নিয়ে। পৃথিবীর মানুষ আজ শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাই বাংলাদেশ উন্নায়নের পেছনের গল্প ও পরিকল্পনা, তাঁরা জানতে চাই বাংলাদেশের নারীদের স্বনির্ভরতার কথা। ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশকে প্রশ্নবোধক করে তোলার জন্য নতুন রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তাবয়ণের খেলায় মেতে উঠেছে।যেখান তাঁদের মানবধিকার ও বিচার বহির্ভূত হত্যার সংখ্যা নিয়ে হাজারও প্রশ্ন বিরাজমান,যেখানে বাংলাদেশের মানবধিকার ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা নিয়ে প্রমান বিহীন মনগড়া প্রশ্ন তাঁরা কিভাবে করে?

বাংলাদেশে ২০০১ সালে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সূচনাকারী বিএনপি-জামাত জোট।তাঁরা সাদা হাতিদের(বিদেশীদের) উপর নির্ভর করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।পাশাপাশি বিত্রনপি-জামাত জোট যৌথভাবে বিপুল অংকের টাকার চুক্তি করেছে বিদেশী লবিং গ্রুপের সাথে,যাতে করে শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিদেশের মাটিতে ম্লান করা যায়।
২০০১-১০০৬ পর্ষন্ত মোট ১১৫৭ জন বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে যাদের সবাই ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সর্মথক। এই সকল বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানিক রুপ লাভ করে বিত্রনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ।

সেইসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লংঘনের জন্য কোন অভিযোগ তুলেন নাই এবং কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দেন নাই বরং বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদ সৃষ্টিতে জোট সরকারকে সাহায্য করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বিচার বহির্ভূত হত্যার সংজ্ঞায়নের পরিসর বড় করতে চাই কারন বিচার বহির্ভূত হত্যার লিষ্ট ও মানবধিকারের কথা বলে পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলিকে সাথে নিয়ে নানা দেশে , অঞ্চলে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে, যুদ্ধের ছলে কত মানুষকে হত্যা করে চলেছে।
সকল প্রকার হত্যাকাণ্ড ও তাঁর সঠিক বিচার করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর।

যুদ্ধপরাধীদের বিচার সহ ১৯৭৫ সালের সকল হত্যাকাণ্ড এবং ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার বিচার আওয়ামী লীগ সরকার করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের সকল মানুষ নিরাপদ থাকে এবং যে কোন রকম হয়রানি ও হত্যাকাণ্ড এবং সকল প্রকার অনিয়মের বিচার হয়।
বঙ্গবন্ধুর দেওয়া পররাষ্ট্র নীতি সকল দেশের সাথে সুসম্পর্ক কারও সাথে বৈরিতা নয়। তাই বাংলাদেশ রাশিয়ার হাত ধরে ৩২তম সদস্য হিসাবে বিশ্ব পরমানু ক্লাবে প্রবেশ করেছে।

রাশিয়া ও চীনের সাথে বাংলাদেশের অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বিনিয়োগ বানিজ্য ও উন্নায়ন সহযোগী অংশীদার দেশ হিসাবে বাংলাদেশ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে,যা যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যথার মূল কারন।
আর এই কারনে গণতন্ত্র সস্মেলনে রাশিয়া ও চীনের সাথে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ করে নাই ,এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নামে মানবাধিকার লংঘনের কথা বলে এবং ভবিষ্যৎ এ আরও অপেক্ষমাণ ইসু সৃষ্টি করবে,যা জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব,নাহলে প্রতিপক্ষ সৃষ্ট করে নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেদের দাঁড় করিয়ে গণতন্ত্র ও বিচারবিহীন হত্যার ছুতা দিয়ে পরাশক্তির লম্বা হাত দিয়ে,বাংলাদেশের চলমান উন্নায়নের গতিধারা ব্যাহত করে,উন্নত দেশের কাতারে টেকসই অর্থনীতির যাত্রাকে রুখে দেওয়ায় তাঁদের উদ্দেশ্য।

তাই বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০বছরপূর্তিতে টেকসই উন্নায়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ একান্ত জরুরী ।

 

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আপনার মতামত জানান

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More