চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা দেখতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেবে চীনা প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রাম ব্যুরো: যানজটে বেহাল চট্টগ্রাম নগরে সাড়ে ৫৪ কিলোমিটার জুড়ে মেট্রোরেল স্থাপনের বিষয়টি এখন জোরেশোরে আলোচনায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছে কিংবা নির্দেশনাও স্পষ্ট চট্টগ্রামে যেন মেট্রোরেল হয়। চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নাকি মনোরেল করা হবে তা নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণ চলছে। নগরবাসীর স্বার্থে যা ভালো হবে সেটাই করা হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন লি. (সিআরসিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সামনে মেট্রোরেল/মনোরেল সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করে। প্রতিষ্ঠানটি মেট্রোরেল এবং মনোরেল দুই ধরনের প্রকল্পের সম্ভাব্যতা কিভাবে করতে হবে তার প্রাথমিক ধারণা দেয়।

এসময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, বন্দর নগরী চট্রগ্রাম অর্থনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

এই শহরের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে এখানে মেট্রোরেল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। চট্রগ্রামে মেট্রো এবং মনোরেল প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়ার কথা বলেন। এসময় চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা শহীদুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, প্রধান পরিকল্পনাবিদ আবদুল্লাহ আল ওমর উপস্থিত ছিলেন।

গত ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একনেক (ইসিএনইসি) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্রগ্রামে মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্রগ্রাম মহানগরীতে দিন দিন যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চট্রগ্রামে মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণ ও দ্রত এর বাস্তবায়নে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ সচিবকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দায়িত্ব দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীতে মেট্রোরেল করার প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছিল। সেসময় চট্রগ্রাম মহানগরে মেট্রোরেল চালুর জন্য আলাদা একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলেছিল সরকার। ওইসময় ঢাকার মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ গঠন হলেও চট্রগ্রামেরটি হয়নি। একারণে চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পটি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যায়। তাই ওইসময় প্রি ফিজিবিলিটি স্টাডি আর পাঠানো হয়নি। সম্প্রতি মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডির মতামত চাওয়া হয়। এরপর একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছে।

চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তাাবিত মেট্রোরেল প্রকল্পে তিনটি এমআরটি লাইন তৈরির কথা বলা হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ হবে কালুরঘাট থেকে বহদ্দারহাট হয়ে কাপাসগোলা দিয়ে চকবাজার হয়ে চিটাগং ক্লাবের পাশ দিয়ে লালখান বাজার হয়ে (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দোতলা করার প্রস্তাব ছিল) বিমানবন্দর পর্যন্ত। এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ২৬ কিলোমিটার (২০টি স্টেশন)। লাইন-২ হবে সিটি গেট থেকে নিমতলা হয়ে শাহ্ আমানত সেতুর গোল চত্বর পর্যন্ত। এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার (১২টি স্টেশন)। লাইন-৩ হবে অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গিবাজার ও পাঁচলাইশ থেকে একে খান পর্যন্ত। এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার (স্টেশন ১৫টি)। এছাড়া লিংক লাইন হিসেবে এ কে খান হয়ে জাকির হোসেন রোড দিয়ে জিইসি দিয়ে পাঁচলাইশে গিয়ে মেট্রোরেল লাইনের সাথে যুক্ত হবে। প্রস্তাবে তিনটি এমআরটি লাইনের সাড়ে ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি এমআরটি লাইনে ৪৭টি স্টেশন থাকবে।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান