বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ

রিগ্যান ভূঁইয়া: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি কমার বদলে বেড়েই চলেছে দিন দিন। নামে আন্তর্জাতিক হলেও সেবা পেতে বেসামাল অবস্থা বর্তমানে। ট্রলি ছাড়াই কেউ টানছেন লাগেজ আবার কেউ তুলছেন মাথায়। রাতের ফ্লাইট বাতিল, শ্রমিকদের বসার স্থান সংকট, দীর্ঘ যাত্রার পর বিমান থেকে নেমেই হেলথ ডেস্ক আর ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতার পর লাগেজ পেতেও কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন সীমাহীন দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন দেশি বিদেশি যাত্রীরা।

বর্তমানে শাহজালালে দৈনিক ২৯টি এয়ারলাইন্সের প্রায় ১৩০টি ফ্লাইট উঠানামা করে। এসব ফ্লাইটে যাতায়াত করে ২০ হাজারের বেশি যাত্রী। কিন্তু বিমানবন্দরের সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রায় প্রতিটি যাত্রীর। এই দুর্ভোগ শুধু বিদেশ ফেরত যাত্রীদের না, বিদেশ গমনকারীরাও শিকার হচ্ছেন হয়রানির।

এদিকে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ে নিয়োজিত বিমানের পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম নেই। এছাড়া বিমানবন্দরে স্থান স্বল্পতা, করোনা পরীক্ষায় লম্বা লাইন, বোর্ডিং পাস ও ইমিগ্রেশনের সময় লম্বা লাইন হওয়ায় যাত্রী জটও বাড়ছে। বিশেষ করে টার্মিনালের প্রথম তলা এবং দ্বিতীয় তলায় এবং ডমেস্টিক টার্মিনালে যাত্রী জট লেগে থাকে।

এছাড়া দৈনিক ৮ ঘণ্টা রানওয়ে বন্ধ থাকায় এয়ারলাইন্সগুলোকে পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে ফ্লাইটের সময়। শীতকালীন দিনের অল্প সময়ে বাড়তি চাপে শাহজালাল বিমানবন্দর। অপরদিকে যে সব যাত্রীর সকালে ফ্লাইট রয়েছে তারা অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগেই বিমানবন্দরে উপস্থিত হচ্ছেন। অনেকেই বিমানবন্দরের টার্মিনালে রাত যাপন করছেন। তাদের স্বজনেরা আবার বিমানবন্দরের সামনের মূল ফটকে বসে সময় কাটাচ্ছেন।

গতবছর বিমানবন্দরের টার্মিনালে ভয়াবহ ট্রলি সংকট কাটলেও দুর্ভোগের শেষ হয়নি এখনও। বিমানবন্দরের ক্যানোপিতে গ্রিল দিয়ে আটকে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ক্যানোপি থেকে পার্কিংয়ে থাকা গাড়ির কাছে যেতে লাগেজ মাথায় তুলতেই হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অসুস্থ, বৃদ্ধ, নারী এবং বেশি মালামাল নিয়ে আসা যাত্রীরা। সহসা এই গ্রিল তুলে নেওয়ার আগ্রহ নেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের।

শাহ্জালাল বিমানবন্দর ব্যবহার করে যারাই বিদেশে যাবেন তাদের এবং দেশে আসবেন তাদেরই টেস্ট বাধ্যতামূলক হওয়ায় যাত্রীরা ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা আগেই হাজির হচ্ছেন। এতে মানুষের ভিড় বেড়ে যাচ্ছে। আবার লম্বা লাইন হওয়ার কারণে অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

এছাড়া গাড়ি রাখার স্থানে লোকজন থাকার কারণে ওই গাড়িগুলো বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের সামনের সড়কে রাখা হয়েছে। হ্যান্ড মাইকে এপিবিএন’র সদস্যরা বার বার সেখান থেকে লোকজনকে চলে যেতে বলছেন।

প্রবাসীদের বলা হয় রেমিটেন্স যোদ্ধা অথচ এদের মানুষ মনে করা হয় কিনা সন্দেহ আছে। যারা ভিভিআইপি, তাদের এক মুহূর্তও কোথাও দাঁড়াতে হয় না। লাইন ভেঙে তাদের কাজ করে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ালে এবং যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় তারা আর একটু দ্রুত কাজ করা ও মানবিক হলেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান