ক্ষমা করে দিও তানজীম

পলাশ আহসান: পত্রিকায় পড়লাম গত ৩১ শে ডিসেম্বর রাতে অসুস্থ হয়ে পর দিন মারা গেছে হৃদয়ে ক্ষত এক শিশু। ওর নাম তানজীম উমায়ের। বয়স সাড়ে চার মাস। শিশুটির বাবা মা জানিয়েছেন থার্টি ফাস্ট উদযাপনের সময় আতশবাজির বিকট শব্দে ও বার বার কেঁপে উঠছিল। আঁতকে উঠছিল কেউ সামনে গেলে। রাতেই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট।

পরদিন সকালে হাসপাতালে ভর্তির পর বিকেলের দিকে মারা যায় শিশুটি। চিকিৎসকরা জানান বিকট শব্দে তাঁর অসুস্থ হৃদয় বিকল হয়ে যায়। যেটা পরে আর স্বাভাবিক হয়নি। সামনের মাসেই তার হৃদয়ের ক্ষত সারাতে অস্ত্রোপচারের কথা ছিল।

অথচ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আতশবাজি ফোটাতে নিষেধ করেছিল। চেষ্টাও করেছিল বন্ধ করার। পুরোটা পারেনি। কারণ যার যার বাড়ির ছাদে বাজি ফোটালে সেটা কিভাবে বন্ধ করা যাবে? নিশ্চয়ই না।

শব্দ দূষণ করে আনন্দ পাওয়ার আরও নজির আছে। আমাদের দেশে যার কোনটাই নিশ্চিত ভাবে বন্ধ হবে না। কারণ কেউ শব্দ দূষণের কথা বলতে চাইলে তাঁকে থামিয়ে দেয়ার খাপ খোলা তলোয়ার চারপাশের বহু মানুষের হাতে হাতে।

অতএব হৃদরোগে আক্রান্ত প্রবীণ ও শিশুরা কষ্ট পেতেই থাকবেন। কেউ কেউ মারাও যাবেন। আর আমরা সভ্য হচ্ছি সভ্যে হচ্ছি বলে চিৎকার করতেই থাকবো। অবশ্য একটা জিনিস কিন্ত হচ্ছে। এই যে সভ্যতার চিৎকার, এর যে বিকট শব্দ, এতে দূষণের তালিকায় আরেকটি উপাদান যুক্ত হচ্ছে নিয়মিত।

লেখক: যুগ্ম প্রধান বার্তা সম্পাদক, একাত্তর টেলিভিশন।

নিউজনাউ/আরবি/২০২২

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান