যানজটের পেছনে ঘাটে শক্তিশালী সিন্ডিকেট!

সোহেল রানা,মানিকগঞ্জ থেকে :

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষের রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া নৌ-রুটের মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট শক্তিশালী ছায়া সিন্ডিকেট চক্রের কবলে । ঘাটের যানজট, যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে নৌ – মন্ত্রনালয় ও প্রশাসনের নানা উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখছেনা তেমন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সাথে আবির্ভাব হয়েছে একেক বাহিনীর । সর্বশেষ ২০০৮ ইং সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঘাটের এক সময়ের কুলির সর্দার ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরু মন্ডলের সহায়তায় গড়ে উঠে নুরু বাহিনী। এই নুরু বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে ঘাটে চাদাবাজি, ছিনতাই, ট্রাকের টিকিট সিন্ডিকেটসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ।

গত কয়েকমাস আগের নির্বাচনে পরাজয় বরন করলেও। নুরু বাহিনীর অনেক সদস্য এখনো সক্রিয় সিন্ডিকেটের সাথে, এছাড়া ৫/৬ জন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা, ঘাটে দ্বায়িত্বরত কয়েকজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতাসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এ সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্রকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দেন।

অন্যদিকে. মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে ত্রাস হিসেবে এখনো সেরকম কোন বাহিনীর আর্বিভাব না ঘটলেও । স্থানীয় কয়েকজন এই সিন্ডিকেট চক্রের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। মুল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ওয়াকার্স ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা, ফেরি রক্ষণাবেক্ষনের দ্বায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তা, ফেরির কয়েকজন চালক, কনেস্টেবল পদের নৌ ও ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন সদস্য প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে সিন্ডিকেট চক্রকে প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।

ঘাটে সর্বদা যানজট বাধিয়ে রাখতে কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করে এই চক্রটি। কারনে-অকারণে মেরামতে নামে ফেরি ঘাটে বসিয়ে রাখা, ফেরি চলাচলে ধীরগতির পন্থা অবলম্বন, ফেরি ধৌত করার নামে ঘন্টার ঘন্টা বসিয়ে রাখা, লোড আনলোডিং ধীরগতিতে করানো রাতের বেলায় ফেরি বসিয়ে রেখে ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া, পল্টুন সংকট দেখানো।

আরো জানাগেছে, সিন্ডিকেটের ম্যাধ্যমে উপার্জিত অর্থের অংশ কয়েকভাগে ভাগ হয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা কর্মীসহ, উদ্ধতন কয়েকটি মহলে চলে যায়। তাদেরকে ম্যানেজ করে চাপমুক্ত থেকে যাত্রী ও যানবাহন জিম্মিকরে চলছে বছরের পর বছর এ সিন্ডিকেট ব্যবসা।

এছাড়া ঘাটের দুর্ভোগ ও টিকিট বানিজ্য সিন্ডিকেট বন্ধে গত কয়েকদিন আগে রাজবাড়ির পুলিশ সুপার ঘাটে সকল প্রকার ভিআইপি প্রথা বাতিল করেন করার পরেও থেমে নেই যাত্রীদের দুর্ভোগ। তাছাড়া পাটুরিয়া ঘাটেও সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতা কমাতে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযানে বিভিন্ন সময়ে ছিচকে – পুচকেরা ধরা পড়লেও মুলহোতারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।

নিউজ নাউ / রানা/ ২০১৯

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান