‘বাঁচবো ভাবি নাই’- বিমানের জরুরি অবতরণের পর যাত্রীর লোমহর্ষক বর্ণনা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। ফ্লাইটটি অবতরণ করতে না পেরে কয়েকবার আকাশে চক্কর দেয়। অবতরণ নিয়ে জটিলতার সময় ওই ফ্লাইটে থাকা ৪২ জন যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সবাই নিরাপদে আছেন।

সেই বিমানের যাত্রী ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নোমান খালেদ চৌধুরী। বিমানের জরুরি অবতরণের পর জীবন ফিরে পাওয়ার এক অসাধারণ লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।

নিউজনাউকে তিনি বলেন, আমরা সবাই আল্লাহর নাম নিচ্ছিলাম। সম্ভবত আমরা সবাই আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করছিলাম। আপনার সঙ্গে কথা বলবো- এটা আসলে ভাবিনাই তখন।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউরোসার্জারীর পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের (বিজি-৬১৭) ফ্লাইটটিতে করে তিনি সহ আরো ৪২ জন যাত্রী চট্টগ্রাম ফিরছিলেন তিনি। এই ফ্লাইটে আরো ছিলেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী।

নিউজনাউকে নোমান খালেদ বলেন, ‘বিমানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ছিলেন, একজন সাংসদ ছিলেন, সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ছিলেন। বাট এসব ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আর ভুরুঙ্গামারির প্রেসিডেন্ট সেম। কারণ আমরা সবাই একই সমস্যায় পড়েছি, যার পরিনতি কেউ জানে না।’

শুরুর বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘শুরুতে কিছু বলেনি ওরা, কিছুক্ষণ পর বললেন যে একটু সমস্যা হচ্ছে। সমস্যার কারণ ওনারা বলেন নি। এই ফাঁকে আমরা দেখতেছি যে বিমান ওঠা নামা করতেছে। একবার উপরে উঠতেছে একবার নিচে নামতেছে। উপর থেকে নিচের দিকে নেমে হেভি ঝাঁকি দিতেছে, মনে হচ্ছিলো পুড়েই যাবে, আবার মনে হচ্ছে উপরেই উঠতেছে। মানে টেকনিক্যালি ঘুরতেছে। তিনবার কি চারবার ল্যান্ড করার চেষ্টা করছে। আবার উঠে গেছে, আবার নামতেছে, মোট ৪০ মিনিট অবিশ্বাস্য একটা পরিস্থিতি ছিল। বাট ক্যাপ্টেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ম্যানেজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এটুকুই বলবো পাইলট রুবায়েত অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন, অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এই ধরণের পরিস্থিতিতে যে কেউ পাগল হয়ে যেতে পারে, আমরাও জঠিল কোনো অপারেশনের সময় পাগল হয়ে যাই। আমি যা বলছি একদম মন থেকেই বলছি, যেহেতু আমি A2 এর যাত্রী ছিলাম, সামনে ছিলাম। ওনাদের অনেক কথোপোকথানও আমি শুনেছি। সেসব বলা যাবে না, এটুকু বলি, ক্যাপ্টেন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে, ধৈর্যের সাথে, দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। এই ক্রেডিট অবশ্যই আমি দেব। এটা না হলে আমরা হয়তো ল্যান্ড করতে পারতাম না।

বিমান ক্রু-পাইলটদের কথোপকথন শুনে কী বুঝতে পেরেছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আঁচ করতে পেরেছিলাম বলতে, ওনারা ভয় পাচ্ছিলেন যে কোনো বিপদ ঘটে যাবে কিনা। বিমান যখন ল্যান্ড করলো বেশ কিছু অ্যাম্বুলেন্স দাড়িয়ে ছিল, মানে ওনারা যে কোনো পরিস্থিতির জন্য রেডি ছিলেন। হয়তো ওনারা আশঙ্কা করছিলেন, বাট সবকিছুর উপরই তো আল্লাহ। আল্লাহর রহমত ছিল।’

‘যাত্রীদেরও প্রসংশা করতে হবে, শুরুতে সবাই উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু পরে সবাই পরিস্থিতি মেনে নিয়ে শান্ত হয়ে গেছেন। বাট ক্যাপ্টেনের কথা বলতেই হয়, তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন যোগ করেন অধ্যাপক নোমান খালেদ চৌধুরী।

এর আগে বুধবার (১ ডিসেম্বর) রাত ৯ টা ৪২ মিনিটে ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় বিমানটি অবতরণ করানো হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে আসা বিমানের ফ্লাইটটি তিন থেকে চারবার নামার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান