‘রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করবেন না খালেদা’

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে বাকলিয়া কালামিয়া বাজারের কে বি কনভেনশন হলে বেগম জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবীতে বিএনপির সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খন্দকার মোশারফ বলেন, আওয়ামীলীগ দেশকে ধ্বংসের শেষদিকে নিয়ে গেছেন। দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প নেই। আর বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। বেগম জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করলে একমাত্র দেশের মানুষ বিচার পাবে। বাংলাদেশের মানুষ শান্তি পাবে। যারা গণতন্ত্র চায়, যারা দেশপ্রেমিক সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে একটা ধাক্কা দিতে হবে। একটা ধাক্কা দিতে পারলে এই সরকারের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কারণ এই সরকারের কোনো ভিত্তি নাই। সরকারকে আবার বলতে চাই- বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাবার ব্যাপারে যে বাধা আপনারা সৃষ্টি করেছেন সেই বাধা তুলে নেন। অনতিবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেন। এদেশের মানুষের দাবি অনুযায়ী, অবিলম্বে আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন। তখন প্রমাণ হবে- বিএনপি আছে কি নেই।

ড. মোশারফ বলেন, আজ মাঠে কোনো আওয়ামী লীগ নেই। প্রশাসন, পুলিশ দিয়ে এই সরকার দেশ চালাচ্ছে। জনগণ তাদের সাথে নেই।

চট্টগ্রাম থেকে এই সরকারের পতনের আন্দোলন শুরু করতে হবে। যদি না আমাদের নেত্রীকে মুক্তি না দেয়, যদি না আমাদের নেত্রীকে বিদেশ যেতে সরকার যে বাধা সৃষ্টি করেছে সেটি তুলে না নেয়, তাহলে এই চট্টগ্রাম থেকেই আপনারা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করুন। চট্টগ্রামের সমাবেশ রায় দিয়েছে- অনতিবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন, বিদেশে চিকিৎসার জন্য সকল বাধা তুলে দেন, না হলে পতনের আন্দোলনের জন্য এই চট্টগ্রাম প্রস্তুত।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো. নাছির উদ্দীন বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষকের দল। বেগম খালেদা জিয়া তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। আজকে তাকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে বন্দি করে রেখেছে সরকার। শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে নিজের মামলাগুলো তুলে নিয়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে জেলে নিয়ে যাচ্ছে। তারা জনগণের সরকার না, তারা বাহিনীর সরকার। ওবাইদুল কাদের এখন সুন্দর সুন্দর কথা বলছেন। তিনি কথা শিল্পী হিসেবে ভাল পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে উদ্যেশ্য করে বলেন, অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেন। না দিলে জনগন আপনাদেরকে থুথু দিবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকের এই সমাবেশ ১০ বছর আগের পলোগ্রাউন্ডের জনসভার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষ প্রমাণ করেছে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠালে শেখ হাসিনার পতন ঘন্টা বাজানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিন, না হয় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করুন। অতো দানাই পানাই করবেন না, চট্টগ্রামবাসী শেখ হাসিনাকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেবে। বেগম খালেদা জিয়া কারো করুণার পাত্র নয়। ওয়ান ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনা কানের চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যাননি, তিনি দেশেই চিকিৎসার পক্ষে ছিলেন। তিনি নেতাকর্মীদেরকে কাফনের কাপড় পরে প্রয়োজনে রক্ত দিতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, আজকের এই বিভাগীয় সমাবেশ প্রমাণ করেছে, যদি বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে চট্টগ্রামকে অচল করে দেওয়া হবে। আমরা ঘরে বসে থাকবো না। বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পদক লুৎফুর রহমান কাজল, উপজাতি সম্পাদক মিসেস ম্যা মা চিং, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দীন মজুমদার, হারুন অর রশিদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির মহিলা সম্পাদক নুরী আরা সাফা, সাবেক এমপি শাহাজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, কেন্দ্রীয় যুবদলের মোরতাজুল করিম বাদরু, ফেনি জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, কেন্দ্রীয় সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়া, মামুনুর রশীদ মামুন, মশিয়ুর রহমান বিপ্লব, মহানগর বিএনপির সৈয়দ আজম উদ্দিন, এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোসতাক আহমদ খান, লক্ষীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহাবুদ্দীন সাবু, বান্দরবন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা, বিএনপি নেতা নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, ইন্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল, এনামুল হক এনাম, এডভোকেট এনামুল হক, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তি, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাহেদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকএম এন আবছার, ফেনি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আলাল, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিপেন তালুকদার, বিএনপি নেতা অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, নুরুল আমিন, নুর মোহাম্মদ, হাছান জসিম, ফাতেমা বাদশা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদখান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শহিদুল আলম শহীদ, মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন প্রমুখ।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান