লন্ডনের ১ বছর

জাইরাহ দোলন:

অনেক অভিজ্ঞতার মাঝে দিনগুলো যাচ্ছে। ইংরেজদের সংস্কৃতি, চলাফেরা, আদব, বন বাদার, আবহাওয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা, খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সবকিছুই বেশ চমৎকার এবং মনোমুগ্ধকর।

তারপরও যেন একটা ক্ষুধা, পিপাসা হেঁচকি দিয়ে উঠে, যা নিবারণ করা সম্ভব হয় না। পরিবারের প্রতিটা মানুষের অভাব, ভালোবাসা, আদর, শাসন, বারণ সবকিছুই আমাকে বেশ ভাবায় আবার কাদায়।

ঢাকার চিপাচাপা অলিগলি, হকার মামাদের ডাকাডাকি, টি এস সি চত্বর, ফুলার রোড, ডাকসু, রাতের ধানমন্ডি লেক, বনানীর মার্কেটের ভিড়, হাতির ঝিলের কানামাছির ডাক, খিলগাঁও তালতলায় বিকেল বেলার আড্ডা, নিউ মার্কেটের চিৎকার, সন্ধ্যাবেলার ছাদ, ফজরের আযান (নিতান্তই ব্যক্তিগত পছন্দ), জুরাইন-গেণ্ডারিয়া-ফরিদাবাদের টো টো কোম্পানির দায়িত্ব, ৩০০ ফিটের আকাশ, মগবাজারের রেল লাইন, বসুন্ধরা সিটির ফুড কোর্ট, যমুনা ফিউচারের পার্কিং, বসুন্ধরার নর্থ সাউথ, মিরপুরের ছোট ছোট জেলা, গুলশানের ট্রাফিক লাইট, বুড়িগঙ্গার পানি, মাওয়ার ইলিশ, গুলিস্তানের ট্রাফিক জ্যাম, বিজয় সরণীর গাড়ীর মিছিল, বাংলা মোটরের পার্টস, পরীবাগের বন্ধু আড্ডা, শাহবাগের পহেলা বৈশাখ, রমনার বটমূল, বেইলী রোডের আর্তনাদ, কাকরাইল মসজিদ, বংশালের রিকশার দুই ফাঁকের গতি, লক্ষ্মী বাজারের কবি নজরুল, ধোলাইখালের ধান্ধা, সূত্রাপুর-সদরঘাটের আড়ত, পোস্তগোলার সার্চলাইট, মিল ব্যারাক স্টিমারের সাইরেন, নীলক্ষেতের বই, কাঁটাবনের কিচির মিচির, জিগাতলার ফুটওভার, ফার্মগেটের মুখে বিজয় সরণীর সিগন্যাল, বনশ্রী ছয় নম্বর তো রামপুরায় কাচা বাজার, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, নীলাঞ্জনা গানে মুখরিত জিটিএ ভাইস সিটি, মোস্তফার হুরিয়াতে ৯৮ এর ফাইট, বুদ্দুর বিরিয়ানি তো অলির তেহারী, ফুচকা হোক বা ভেলপুরী ঢাকার সিটির এই মায়ায় পরিবার থেকে বন্ধু সকলের অনুভূতিই আমার কাছে বেশ স্পর্শকাতর।

মায়ার বাধন খুব শক্ত, যা চাইলেও খুব সহজে দূরে ফেলে থাকা যায় না। অদ্ভুত এই পৃথিবীতে আমার হাতে আজ এক অচেনা শহরের ম্যাপ।

লেখক: যুক্তরাজ্য প্রবাসী

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান