স্থায়ী আবাসন হয়নি রংপুর মেডিক্যালের ভারতীয় যুবকের

রংপুর ব্যুরো: দুই মাসেও স্থায়ী আবাসনে ঠাই হয়নি রংপুর মেডিকেলে পরে থাকা ঠিকানাহীন ভারতীয় এক যুবকের। শারীরিকভাবে অক্ষম এই যুবককে সুস্থ করতে দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা। আপন ঠিকানায় না হলেও; আপাতত যুবকের মৌলিক চাহিদা পুরোনে আদালতের মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া করছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দিনের পর দিন হাসপাতালের বাড়ান্দায় অযত্নে অবহেলায় পরে থাকা এই ভিনদেশীর ঠাই হয়নি নির্দিষ্ট কোন ঠিকানায়।

বুধবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল পরিচালক ডা. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে যুবকটি হাসপাতালে আছেন। রাস্তায় পরে থাকা এই যুবককে পথচারীরা পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কোন পরিচয় না পাওয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তার সব ধরণের সেবা দেয়া হচ্ছে। যুবকটির কোমড় থেকে পা পর্যন্ত অবস হওয়ায় চলাচল করতে পারেনা সে। মেডিকেলে বোর্ড বসিয়ে তার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভর্তি করা হয়েছে নিউরো সার্জারী বিভাগে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরো সাইন্স ল্যাবরেটরি হাসপাতালে স্থান্তরিত করার পরামর্শ তার।

হাসপাতালের সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসার জয়নাল আবেদীন ও নূরে লাইলা জানিয়েছেন, অসচ্ছল, দুস্থ ও অসহায় মানুষদের চিকিৎসায় সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন তারা। কিন্তু এই ভারতীয় যুবকের কোন পরিচয় না পাওয়া এবং স্বজন না থাকায় তাকে নিয়ে বেকায়দায় পরতে হয়েছে তাদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। নির্দেশনা পেলেই কোন সেচ্ছাসেবা বা সামাজিক সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে হিন্দিভাষী আধমরা এই যুবকের কথা অস্পষ্ট। চলতে না পারায় পুরো সময় শুয়েই কাটে তার। কথা বলার চেষ্টা করা হলেও এটুকু বোঝা গেছে ভুল করে তিনি এই দেশে এসেছেন। পেশায় কৃষি শ্রমিক। নিজের জন্মভূমিতে যেতে বড় ব্যাকুল। প্রসাব-পায়খানা বাথরুমে করতে না পারায় ওয়ার্ডেও বিছানায় যায়গা হয়নি তার। হাসপাতালের আয়া, বয়দের মানবিকতা তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কুলসুম বেগম জানালেন, তার পয় পরিস্কার, গোসলসহ সব কিছু করে দেন তিনিসহ অরো অনেকে। এই সহযোগিতা না করলে হয়তো এতাদিনে উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পরতো। মানুষ হয়ে একজন মানুষের সেবা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।

রংপুর মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, যুবকের বিষয়টি নিয়ে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তিনি ভারতীয় নাগরিক। কোন প্রদেশের বাসিন্দা, কিভাবে সীমান্ত পার হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি মানষিক ভারসাম্যহীন নয়। আইনী প্রক্রিয়া শেষে নির্ধারিত কোন সংস্থার মাধ্যমে এ যুবককে স্থায়ীভাবে আবাসনের আশ্বাস জানিয়েছেন তিনি। গেল দু’মাস আগে নীলফামারীর ডিমলা সীমান্ত দিয়ে এ দেশীয় ভূ-খণ্ডে প্রবেশ করেন এই যুবক।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান