স্ত্রী হত্যা মামলায় পিবিআইয়ের প্রতিবেদনকে বাবুলের নারাজি

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া প্রথম মামলায় পিবিআইয়ের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেছেন ওই মামলার বাদি তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। সেই মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে আছেন বাবুল নিজে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালতে বাবুল আক্তারের পক্ষে আবেদনটি করা হয়।

বাবুলের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান, বাবুল আক্তারের করা নারাজি আবেদন আদালত গ্রহণ করে আগামী ২৭ অক্টোবর তার উপস্থিতিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

নারাজির আবেদনের কারণ সম্পর্কে এ আইনজীবী বলেন, ‘বাবুলের করা মামলায় ৫১ জনের বেশি সাক্ষীর ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিলেও কেউই বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। হঠাৎ করেই সাড়ে চার বছর পর দুজনের সাক্ষী নিয়ে বলা হলো এই হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্তা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম মামলায় দু’জন আসামি জবানবন্দিতে বলেছেন- মুছার নির্দেশে তারা মিতুকে খুন করেছেন। সেই মুছাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তারা সফটওয়্যারের মাধ্যমে মোবাইলের কললিস্ট পর্যালোচনা করেছেন। কিন্তু কোথাও বাদির (বাবুল আক্তার) সঙ্গে মুছার যোগাযোগের প্রমাণ পাননি। তাই আমরা সেকারণেই নারাজির আবেদন করেছি।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে।

স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা নাটকীয়তার পর ২০১৬ সালের আগস্টে বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন প্রথম এই খুনে বাবুলের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন।

পরে আদালতের আদেশে মিতু হত্যা মামলার তদন্ত ভার নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ বছরের মাথায় গত ১১ মে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম পিবিআই কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। এর পরদিন ১২ মে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মিতু হত্যার সঙ্গে তার স্বামী বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। বাবুল আক্তারকে বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুই দফা জামিনের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু জামিন পাননি।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: