রামুতে শিবিরকর্মী নৌকার প্রার্থী, সাবেক-বর্তমান নেতাদের ক্ষোভ

কক্সবাজার প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নে চট্টগ্রাম মহানগরের এক সময়ের ছাত্রশিবিরকর্মী হিসেবে পরিচিত মোয়াজ্জেম মোর্শেদ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় বিতর্ক উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, ‘মোয়াজ্জেম মোর্শেদ চট্টগ্রামের ভয়ংকর এক আতংকের নাম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ও মহানগরে শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ওই ক্যাডারের হাতে একসময় নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির লোকজন মার খেত। তার অত্যাচারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজেও যেতে পারত না। পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়েই চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে কক্সবাজার যায় ওই ক্যাডার।’

No description available.

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহামুদুল করিম বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার কারণে মোর্শেদ আমাকে কয়েক দফা সরাসরি হুমকি দেয়। কিন্তু তার হুমকি না মানায় প্রথমে ২০১১ সালের জুলাইতে আমার ওপর হামলা করে তুলে নিয়ে আমার পা ভেঙে দেয়। আমার বাবা-মাকেও হুমকি দেয় মোয়াজ্জেম মোর্শেদ। ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর আমি পরীক্ষা দিতে গেলে বিকাল ৫ টার দিকে আমাকে হল থেকে তুলে নিয়ে যায় মোয়াজ্জেম মোর্শেদ ও তার দলবল। প্রথমে আমাকে তারা নির্মাণাধীন স্টাফ ভবনে নিয়ে মারধর করে। এরপর সেখানে লোক জমায়েত হতে শুরু করলে সোহারাওয়ার্দী হলের তখনকার পরিত্যক্ত হিন্দু হোস্টলে নিয়ে আমার আঙুলের নখ তুলে আমাকে গুরুতর জখম করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখে। পরে কয়েকটি থানার পুলিশ পুরো হল ঘেরাও করে আমাকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে মোয়াজ্জেম মোর্শেদসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

এক সময় চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের রাজনীতি করা ও বর্তমান কক্সবাজার শহর কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসাইন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের নৌকার মাঝি মোয়াজ্জেম মোর্শেদ সেদিন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হককে শিবিরের কর্মীদের নিয়ে হত্যা চেষ্টার উৎসবে মেতেছিল, আজ নৌকার মাঝি কেমনে হলো? ধিক্কার জানাই যারা তাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছে তাদের,,,

No description available.

চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী হোস্টেলে থাকা শিবিরের ক্যাডার যদি নৌকার মাঝি হয়, এটা আওয়ামী লীগের জন্য অশনি সংকেত নয় কি?

রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামশুল আলম মন্ডল বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারাই মোয়াজ্জেম মোরশেদের নাম প্রস্তাব করে পাঠিয়েছে। সেটাই আমরা জেলা আওয়ামী লীগকে ফরোয়ার্ড করেছি। মোয়াজ্জেম নিজে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে বলে দাবি করেছে। আমাদের যাচাই করার সুযোগ হয়নি। এখন বিতর্ক উঠে থাকলে আমার খবর নিয়ে দেখছি।’

মোয়াজ্জেমের ছাত্রলীগের রাজনীতি সম্পর্কে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘মোয়াজ্জেম মোর্শেদ আমার পাশের ইউনিয়নের ছেলে। আমি সভাপতি হওয়ার পর তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার চেষ্টা চালায়। আমার নামে বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার ফেস্টুনও দেয়। কিন্তু আমি খবর নিয়ে জানতে পারি তিনি অতীতে কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িতে ছিল না। বরং শিবিরের ক্যাডার হিসাবে বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছে বলে প্রমাণ পাই।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোয়াজ্জেম মোর্শেদ বলেন, ‘আমি ২০১০ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বের হয়েছি। তাই এর পরে কী হয়েছে সেখানে আমার জানা নেই। আমি মাহামুদুল করিম নামের কাউকে-ই চিনি না। ওই কলেজে কেউ মোর্শেদ নামে আমাকে চিনে না। সেখানকার সকলে আমাকে জিনান নামে ডাকত।’

তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজার কলেজে অনার্স পরার সময় আমি ছাত্রলীগ করেছি। কক্সবাজার ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রলীগের প্রথম কমিটি আমার। এছাড়া ২০১৮ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু আইন ও ছাত্র পরিষদের অ্যাডভোকেট নোমান ও নাজিম কমিটির কক্সবাজার জেলা সভাপতি আমি। কাজেই একটি মহল আমার জয় ঠেকাতেই পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

নিউজনাউ/আরবি/২০২১

 

 

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: