চট্টগ্রামে ‘পরমার্থ’ বিশ্বাসে পূজিত হলেন কুমারী প্রীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার মহাষ্টমীতে চট্টগ্রামে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাতৃজ্ঞানে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করাই কুমারী পূজা।

প্রতিবছরের মতো এবারও বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকালে মহাষ্টমীতে নগরের পাথরঘাটায় শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মন্দিরের উদ্যোগে কুমারী পূজা হয়েছে।

এবার দুর্গার আসনে কুমারী রুপে পূজিত হয়েছেন সেন্ট স্কলাস্টিকাস স্কুলের কেজি শ্রেণীর ছাত্রী প্রীত ধর (৬)। শাস্ত্রমতে এদিন তার নাম হয় উমা। উমা নামে কুমারী পূজিত হলে শত্রুনাশ হয়।

মহারাজ শ্যামল সাধু মোহন্তের পৌরহিত্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুমারী পূজা সম্পন্ন করা হয়। প্রীত পাথরঘাটা এলাকার মিন্টু ধর ও পলি ধর দম্পতির কন্যা।

কুমারী পূজায় মন্দিরের পূরহিত শ্যামল সাধু মোহন্ত মহারাজ উপস্থিত পূজার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দুর্গার আরেক নাম কুমারী। মূলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয় তারই বাস্তব রূপ কুমারী পূজা।

কুমারীতে সমগ্র জাতির শ্রেষ্ঠ শক্তি, পবিত্রতা, সৃজনী ও পালনী শক্তিসহ সব কল্যাণী শক্তি সূক্ষ্মরূপে বিরাজিত। কুমারী প্রতীকে জগৎ জননীর পূজায় পরম সৌভাগ্য লাভ হয়। এ রূপ কুমারী সমগ্র জগতের বাক্যস্বরূপা, বিদ্যাস্বরূপ।

কুমারী পূজা

মাতৃভাবে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা করে তাতে জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করাই কুমারী পূজা। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, মা কালীর হাতে কলাসুর বধের প্রতীকী হল কুমারী পুজো। কথিত রয়েছে, কলাসুর স্বর্গ ও মর্ত্য অধিকার করে নিয়েছিল। দেবতারা মা কালীর কাছে উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেন। তাদের আর্তি শুনে মা কালী আবার জন্ম নেন শিশুকন্যা রূপে এবং কলাসুর বধ করেন।

তাই নারীতে ‘পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন’- এ বিশ্বাস নিয়ে দুর্গোৎসবের অষ্টমী তিথিতে ‘সর্ববিদ্যাস্বরূপিনী’ কুমারী রূপে ‘দেবী দুর্গার’ বন্দনায় পূজা-অর্চণা ও আরাধনায় মেতে উঠেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

নিউজনাউ/পিপিএন/২০২১

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: