বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাবে বিদেশগামীদের চরম ভোগান্তি, দেখার কেউ নেই

নিউজনাউ ডেস্ক: অনেক আলোচনা, সমালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিমানবন্দরে বসানো হলো র্যাপিড পিসিআর ল্যাব। বিদেশগামীদের প্রত্যাশা ছিলো এবার হয়তো নিশ্চিন্তে ফিরে যাওয়া যাবে কাঙ্খিত গন্তব্যে। তবে বরাবরের মতোই বাংলাদেশে যে রকম জটিলতা দেখা যায় এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। চরম ভোগান্তির শিকার হতে হলো বিদেশগামীরা। ৬ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার ফল পাওয়ার কথা থাকলেও কখনো কখনো সময় লাগছে ১০ ঘণ্টা। অমানবিক এ চিত্র দেখার যেন কেউ নেই।

বিদেশগামীদের অভিযোগ-বিমানবন্দরে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ১২টি বুথে নমুনা সংগ্রহ করায় তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে নমুনা দিতে হয়। পরীক্ষার ফল পেতেও অপেক্ষা করতে হয় অনেক সময়। তাই যাত্রার আগে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা তাদের পরীক্ষার জন্যই কাটাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে যাত্রার একদিন আগেই বিমানবন্দর এলাকায় চলে আসছেন।

বিদেশগামীদের ল্যাবে নমুনা দেয়া থেকে শুরু করে রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগছে। এতে যাত্রীরা বিমানবন্দরের বোর্ডিং পাস, ইমিগ্রেশনসহ আনুষঙ্গিক কাজে পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাসিন্দা রফিকুল জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য বিমানবন্দরের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছেন যে, করোনা পরীক্ষার জন্য হাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় নিয়ে বিমানবন্দরে আসতে। কিন্তু, তার রিপোর্ট পেতে ১০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। দীর্ঘ লাইনে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

খুলনার ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা সাব্বির জানান, করোনা রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ার কারণে বিমানবন্দরে নিয়মিত কাজগুলো বাকি আছে। অনেকেই সময়মতো ফ্লাইট ধরতে পারবে কি-না তার জন্য দুশ্চিন্তায় আছেন।

অনেক গমনেচ্ছুদের দেখা গেছে, তাদের ফ্লাইটের সময় রাতে হলেও র‌্যাপিড পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার জন্য ১ দিন আগেই বিমানবন্দরে চলে আসছেন। অনেকে বিমানবন্দরেই রাত কাটাচ্ছেন। এখন দিনে প্রায় ৪ হাজার জনের পরীক্ষা হচ্ছে। রিপোর্ট ডেলিভারি দিতে প্রায় ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে লাইনে দাড়ানো যাত্রীদেরও সামাজিক দূরত্ব মানার কোন বালাই নেই। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও রয়েছে।

বিশেষত, নারী ও শিশুদের ভোগান্তির যেন কোন সীমা নেই। পিসিআর টেস্টের জন্য নমুনা দিতে অতিরিক্ত সময় লাগায় ফল পেতেও সময় লাগে সেই অনুপাতে। পরীক্ষার ফলাফল পেলে পরের ধাপে বোর্ডিং পাস, ইমিগ্রেশন ইত্যাদি সকল প্রক্রিয়াকরণেও বেশ সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রে দেরি হলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। আশঙ্কা থাকে ফ্লাইট হারিয়ে ফেলার। ফলে ভোগান্তি থেকেই গেলো প্রবাসীদের কপালে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদুল আহসান জানান, ‘র‌্যাপিড পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং কমিটি অবগত আছেন। তারা বিষয়টি দেখছেন।’

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, যে ৬টি প্রতিষ্ঠান পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছে সে সব প্রতিষ্ঠান হলো: আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্টেমজ হেল্‌থ কেয়ার, সিএসবিএফ হেল্‌থ সেন্টার, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড ও মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক। তারা দু’টি করে বুথে নমুনা নিয়ে করোনা পরীক্ষা করছে।

নিউজনাউ/এসএ/২০২১

+1
0
+1
0
+1
1
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: