জনককন্যা শেখ হাসিনা, শতায়ু হোন

মোহাম্মদ এ. আরাফাত:

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নতুন করে বলা বা লেখার কিছু নেই। তাকে নিয়ে বিশ্ব এখন বলছে, লিখছে প্রতিনিয়তই। এই সময়ের বিশ্ব নেতৃত্বের সবচেয়ে আলোচিত নামও তিনি। পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাচ্ছেন, তাকে কেন্দ্র করেই আলোচনার সূত্রপাত হচ্ছে। শেখ হাসিনাকে নিয়ে আলোচনা করা মানে বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনা। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত নাম। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়েছে, এগিয়ে যাবে আরও। যতদিন জনককন্যার হাতে বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বাংলাদেশ স্বস্তিতে থাকবে, সম্মানের সঙ্গে আলোচিত হতে হবে। কারণ বাংলাদেশ এখন আলোকিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আলোর পরশ বুলিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশও আলোকিত হতে চাইছে।

মডেল হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে অনেকেই। এটা তো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশেরই অর্জন। আমরা কি একবারও ভাবি কোথায় ছিলো বাংলাদেশ? বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার কোন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলো, বিশ্বে এই দেশটির ভাবমূর্তি কেমন ছিলো? কে না জানে দুর্নীতিতে বারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মৌলবাদ-জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য হয়েছিলো দেশ। কিন্তু শেখ হাসিনা যখনই দেশকে পরিচালিত করেছেন, যখনই তার নেতৃত্বে থাকে দেশ, ভালো থাকে বাংলাদেশ। প্রমাণ তো তিনি দিয়েছেন ইতোমধ্যেই।

শেখ হাসিনার বিশেষত্ব কী? একটা দেশকে গর্ত থেকে উঠিয়ে এনে বিশ্বের একটি আলোচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের ক্ষমতায় এনে দেশটাকে ধ্বংস করা হয়েছিলো। বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে দেশের প্রায় সকল ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতিতে ভরে উঠেছিল সামরিক সরকারগুলোর শাসনামলে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সামরিক শাসন থেকে জন্ম নেয়া বিএনপি আর মূলধারার রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতকে আমরা পেলাম। মৌলবাদি-জঙ্গিবাদি ভাবাদর্শের দল দুটির সঙ্গে লড়াই করে, সব আবর্জনা পরিস্কার করে দেশকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কাজটি শেখ হাসিনা করেছেন সফলতার সঙ্গেই। কেউ কল্পনাও করেছেন কখনও এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে? ভাবেননি। যা কেউ ভাবেননি, সেটাই বাস্তব করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। মুজিবকন্যার সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে দেশের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি। যে প্রতিশ্রুতিতে তিনি বদ্ধপরিকর। দেশ ও মানুষের প্রতি তার আত্মনিবেদন প্রশ্নহীন। প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখেন, মনোযোগ দেন, চিন্তা করেন এবং সে অনুযায়ীই কাজ করেন।

তিনি প্রতিটি ফাইল পড়েন, বোঝেন তারপর স্বাক্ষর করেন। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্র নিয়ে তার যে পরিমাণ জ্ঞান, তা অতুলনীয়। প্রত্যেকটি সমস্যা সম্পর্কে অবগত হোন, হওয়ার চেষ্টা করেন। সমাধানের চেষ্টাও চলে সমানতালে। সৎ, প্রতিশ্রুতিবান এবং দেশপ্রেমিক শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য বিরাট এক সম্পদ। ব্যবস্থাপক হিসেবে অসাধারণ। মাইক্রো লেভেল পর্যন্ত ম্যানেজ করার ক্ষমতাসম্পন্ন একজন নেতা। শেখ হাসিনা যা অনায়াসে, খুব সহজে করতে পারেন, বিশ্বের অন্য কোন দেশের নেতা বা প্রধানমন্ত্রী তা পারেন না। এটা গড গিফটেড। বঙ্গবন্ধুর মধ্যেও গড গিফটেড ব্যাপারটা প্রবলভাবে ছিলো। প্রধানমন্ত্রী কোন কিছুই ভুলেন না। এক যুগের আগের ঘটনাও তার মনে থাকে।

ফটোগ্রাফিক মেমোরি তার। এটা একটা অসাধারণ ব্যাপার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে মৌলবাদি ও জঙ্গিবাদি উপাদানগুলো রয়েছে এখানে সেগুলো মোকাবেলা করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যারা অবাস্তববাদি রাজনীতিবিদ, তারা প্রতিনিয়ত মানুষকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছেন, তাদের মোকাবেলা করাটাও কি শেখ হাসিনার জন্য কম বড় চ্যালেঞ্জ?বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ খুব সহজ-সরল। তাদের সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে বিভ্রান্ত করা যায়। জঙ্গিবাদি, মৌলবাদি এবং অবাস্তববাদি বামপন্থিদের একটা অংশ সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে থাকে।

কিন্তু মানুষ যদি সত্যিকার অর্থে শেখ হাসিনাকে বুঝতে পারতো, তাহলে তার জনপ্রিয়তা এখন আশি শতাংশ, সেটা হতো শতভাগ। বুঝতে পারলে মানুষ আর জনককন্যার বিকল্পই খুঁজে পেতো না বা বিকল্প চিন্তাও করতে পারতো না। জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ, জামায়াতি-বামাতি সব অপশক্তির মোকাবিলায় এগিয়ে যাওয়া সহজ নয়। অত্যন্ত দুঃসাধ্য কাজ। সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে। এদেশটি যে তার হাতেই নিরাপদ, তার শত্রু-মিত্র কারোরই আর বাকি নেই তা বুঝতে।
শুভজন্মদিন জনককন্যা, শতায়ু হোন।
সূত্র: আজসারাবেলা

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
আপনার মতামত জানান
%d bloggers like this: